সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দিতে জিয়াউল সম্পর্কে যা উঠে এল

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে তাঁর জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশে গুম-খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে। এই সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সাবেক সেনাপ্রধান আওয়ামী লীগ সরকারের গত দুই দশকের সময়ে সশস্ত্র বাহিনীতে স্বেচ্ছাচারিতারও বিস্তৃত তথ্য প্রকাশ করেছেন।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম বলেন, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জিয়াউল অতিরিক্ত উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠেন। তিনি এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। আর আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের (এএসইউ) সূত্র জানায়, কর্নেল জিয়া তাঁর আবাসিক টাওয়ারে নিজস্ব গার্ড রেখেছিলেন, পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি বসিয়েছিলেন এবং বাসায় অস্ত্র রাখতেন। পরে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া, ক্যামেরা খুলে ফেলা ও নিয়মিত অফিসিয়াল শৃঙ্খলা মানার নির্দেশ দেওয়া হলেও, তার আচরণ আরও অবাধ্য হয়ে যায়।

ইকবাল করিম আরও জানান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল জানান, জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গেলে মনে হতো যেন একটি পাথরের মতো স্থির মস্তিষ্কের সঙ্গে কথা হচ্ছে। নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠতার কারণে কর্নেল জিয়া তাঁর নির্দেশ চ্যালেঞ্জ শুরু করেন। ফলে তাঁকে রেললাইনের পশ্চিম পাশে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করতে হয়, পূর্ব পাশে থাকা আবাসনে থাকার সুযোগ রাখলেও।

সাবেক সেনাপ্রধানের মতে, ১৯৯৬-২০০১ সালের ভুল পুনরাবৃত্তি এড়াতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান, এবং সেনাবাহিনীতে অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ। নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকী গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি ও কেনাকাটার ফাইলের ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেন।

নিম্নে গত ১৫ বছরে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগে ওঠা মামলা ও বিচার কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত তথ্য সারণী দেওয়া হলো:

বিষয় তথ্য
অভিযুক্ত মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসান
মামলা ধরন গুম, খুন, অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
তদন্তকারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
সাক্ষ্য সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া
শুনানির শেষ তারিখ নির্ধারিত – উভয় পক্ষের শুনানি শেষ
আদেশের দিন ১৪ জানুয়ারি
নেতৃত্বাধীন বিচারক মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার

বিগত ১৫ বছরে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শোনা শেষ হয়েছে, এবং ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১-এর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হলে এটি দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে ধরা হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।