খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে মাঘ ১৪৩২ | ২১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সাবেক সেনা সদস্য মাহবুব আলমের (৫৭) হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে একজন বর্তমান সেনাবাহিনীর সদস্য। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ল্যান্স কর্পোরাল ইমরান ও জনি। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী রফিক জানিয়েছেন, দুইজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ওসি আরও বলেন, “হত্যার ঘটনায় তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি অনুযায়ী ঘটনার সময় তারা এবং তাদের সহযোগীরা সক্রিয়ভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব আলম উত্তরা পূর্ব থানার এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বডিগার্ড বা গানম্যান হিসেবে চাকরির খোঁজে মাহবুব আলম ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কে উপস্থিত হন। সেই সময় দুটি অজানা গাড়ি সেখানে আসে। গাড়ি থেকে নেমে একজন হঠাৎ লাঠি দিয়ে মাহবুব আলমের মাথায় আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যেই আরও পাঁচ-ছয়জন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ভর্তি করান, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইমরান ও জনিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।
নিচের টেবিলে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| প্রার্থীর নাম | পদবী / পরিচিতি | গ্রেপ্তার তারিখ | অভিযোগের ধরন | স্বীকারোক্তি |
|---|---|---|---|---|
| ইমরান | ল্যান্স কর্পোরাল, সেনাবাহিনী | ১৭ জানুয়ারি | হত্যাচেষ্টা ও সহায়তা | আদালতে স্বীকার |
| জনি | সাধারণ ব্যক্তি | ১৭ জানুয়ারি | হত্যাচেষ্টা ও সহায়তা | আদালতে স্বীকার |
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার প্রভাব থাকতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা এখনও ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্টদের অতীত সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার কর্মকর্তা বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা তদন্তে সহযোগিতা করছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
মাহবুব আলমের মৃত্যু গোটা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয়রা এবং সহকর্মীরা তার আত্মত্যাগ ও চাকরিতে ন্যায়পরায়ণতার জন্য তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।