খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে মাঘ ১৪৩২ | ২১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সাভারে গ্রেপ্তার হওয়া সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’ নামে পরিচিত সবুজ শেখের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের সূত্রে জানা গেছে, নিজ পরিচয় গোপন রেখে তিনি ভবঘুরে নারীদের বিভিন্ন স্থান থেকে নির্জন ভবনে নিয়ে যেতেন এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর হত্যা করতেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আদালতে অভিযুক্ত যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তার সত্যতা যাচাই করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সবুজ শেখের পিতার নাম পান্না শেখ। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় বোনের নাম শারমিন। জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। তবে নানাবাড়ি বরিশালে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ শেখ স্বীকার করেছেন, ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে অন্য কেউ সম্পর্ক করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যা করতেন। পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ঘটনার কয়েক দিন আগে তিনি তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে রেখে দেন। পরে তার সঙ্গে এক যুবকের সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী, প্রথমে যুবককে হত্যা করা হয় এবং এরপর তরুণীকে। পরে উভয়ের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।
সোমবার আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ শেখ ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, সবুজ শেখ দীর্ঘদিন সাভার মডেল থানার আশপাশে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজার মোড় এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। তিনি নিজের পরিচয় বিভিন্নভাবে জানান—‘কিং সম্রাট’ বা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’। তবে তথ্য যাচাইয়ে কোনো নির্দিষ্ট মিল পাওয়া যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভি.সি.আরমান আলী জানান, “আদৌ অভিযুক্তের আচরণ অস্বাভাবিক, তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
সর্বশেষ সাত মাসে ঘটে যাওয়া ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| তারিখ | স্থান | লিঙ্গ | পরিচয়/বিবরণ |
|---|---|---|---|
| ৪ জুলাই | সাভার মডেল মসজিদ | মহিলা | অজ্ঞাত, পরে শনাক্ত |
| ২৯ আগস্ট | পৌর কমিউনিটি সেন্টার | পুরুষ | অজ্ঞাত |
| ১১ অক্টোবর | পৌর কমিউনিটি সেন্টার | মহিলা | অজ্ঞাত |
| ১৯ ডিসেম্বর | পৌর কমিউনিটি সেন্টার | পুরুষ | অজ্ঞাত |
| ১৮ জানুয়ারি | পৌর কমিউনিটি সেন্টার | নারী | পোড়া লাশ |
| ১৮ জানুয়ারি | পৌর কমিউনিটি সেন্টার | পুরুষ | পোড়া লাশ |
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের দেওয়া স্বীকারোক্তি এবং পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য যাচাই প্রক্রিয়াধীন। সাভারের এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।