খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৪ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
সারাদেশে মব বা গণপিটুনির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গত ১০ মাসে মবের শিকার হয়ে মারা গেছেন অন্তত ১৭৪ জন, যার মধ্যে এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত মারা গেছেন ৮৩ জন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) হিসেবে, গত ৮ মাসে মবের ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৬৩ জন।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও এ ধরনের হামলার শিকার হচ্ছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৭৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে ৪১, সেপ্টেম্বরে ২৪, অক্টোবরে ৩৪, নভেম্বরে ৪৯, ডিসেম্বরে ৪৪, জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭, মার্চে ৯৬, এপ্রিলে ৫২ এবং মে মাসে ৬২টি মামলা হয়েছে।
সর্বশেষ রবিবার উত্তরায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার বাসায় মবের হামলার ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে পুলিশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে। পুলিশের ভাষ্য, রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রায় ৪০-৪৫ জনের একটি দল হুদার বাসায় অনুপ্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “নূরুল হুদা যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। কোনো ধরনের মব বিচার গ্রহণযোগ্য নয়।”
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও জনগণকে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, “৫ আগস্টের পর প্রত্যাশা ছিল ন্যায্য শাসন ও শান্তি, কিন্তু মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অরাজকতা থামছে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, “পুলিশের উপস্থিতিতেও মবের ঘটনায় বোঝা যায়, দেশে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এ পরিস্থিতির শিকার যে কেউ হতে পারে।”
এ ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, বিচারবহির্ভূত মব হামলা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি একটি সভ্য রাষ্ট্রের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। তারা জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড