খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে নতুন করে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ২০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে তীব্র ঝড়ের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তর এই সতর্কবার্তা জারি করে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুলের সই করা আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা বা দুই দিন দেশের আটটি বিভাগেই কম-বেশি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই বিভাগগুলো হলো—রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে কোথাও কোথাও ভারি অর্থাৎ ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার এবং কোনো কোনো এলাকায় অতি ভারি অর্থাৎ ৮৮ মিলিমিটারের চেয়েও বেশি পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হতে পারে।
টানা এই ভারি বৃষ্টির কারণে রাজধানী ঢাকা এবং বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলোতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এই দুই মেগাসিটির বাসিন্দাদের যাতায়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি অতি ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অফিস অপর একটি সতর্কতা জারি করেছে। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের ২০টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝড়ের ঝুঁকিতে থাকা এই ২০টি অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে—রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট। সম্ভাব্য এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী ছোট-বড় সব ধরনের নৌযানকে সাবধানে এবং তীরের কাছাকাছি থেকে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মৌসুমি বায়ুর এমন সক্রিয় অবস্থানের কারণে সারা দেশেই আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার এবং জরুরি প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।