খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৫ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বছরের শুরুটা ছিল পাকিস্তানের জন্য ব্যস্ত, আর শেষটাও যে এতটাই ব্যস্ত হয়ে উঠবে—তা হয়তো কেউ ভাবেনি। কিন্তু এক বছরে ৫৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো সূচি দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। আর এই ৫৪টিতেই পূর্ণ উপস্থিতি দেখিয়ে ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন সালমান আগা।
বছরজুড়ে পাকিস্তানের খেলা শুরু হয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। তারপর ওয়ানডে, টেস্ট, আবার টি-টোয়েন্টি—মাঝে কোনো বিরতি নেই। এমন ব্যস্ততায় কেউ কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ বদলি হয়। কিন্তু সালমান ছিলেন সব ম্যাচেই। ব্যাট হাতে, অধিনায়ক হয়ে, কখনো বিপদে স্থির থাকা একজন ক্র্যাফ্টসম্যান হিসেবে।
গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামতেই তাঁর নাম উঠে গেল নতুন রেকর্ডের পাতায়। দ্রাবিড়–ধোনি–ইউসুফ—তিন কিংবদন্তিকে এক লাফে পেছনে ফেললেন। মুহূর্তটি শুধু পাকিস্তানের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও বিশেষ অর্জন।
৩২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দ্রুতগতি, ১৭টি ওয়ানডের কৌশলগত চাপ আর ৫টি টেস্ট ম্যাচের ধৈর্যের পরীক্ষা—সব মিলিয়ে বছরটি ছিল সালমানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টকর এবং একইসঙ্গে সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি।
এর আগে এক বছরে ৫০ ম্যাচের মাইলফলক প্রথম ছুঁয়েছিলেন শচীন। সেখান থেকে দ্রাবিড় ৫৩-এ পৌঁছে নতুন উচ্চতা ছুঁয়েছিলেন। আজ সেই সংখ্যাকে পেছনে ফেলে সালমান প্রমাণ করলেন—আধুনিক ক্রিকেটে ফিটনেসই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।
সামনে আরও একটি রেকর্ড অপেক্ষায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামলেই দল ভাঙবে নিজেদের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। পাকিস্তানের সূচি কি খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে? নাকি এটি নতুন প্রজন্মের ফিটনেস বিপ্লবের ইঙ্গিত?—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
একটি বছর, ৫৪ ম্যাচ, অসংখ্য গল্প—সালমানের এই পথচলা হয়ে থাকবে ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায়।