খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে ফাইল তদবির ও লবিংয়ের কমিশনের অর্থ তার ভাই অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী মাহবুব আলম মাহির রিসিভ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট বনি আমিন।
সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ‘সিডনিতে সাড়ে ৬ কোটি টাকার লেনদেন’ শিরোনামে একটি পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ‘মিথ্যা অভিযোগের জবাব’ শিরোনামে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টার বড় ভাই মাহবুব আলম মাহি। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশটসহ পাল্টা বক্তব্য তুলে ধরেন।
বনি আমিন তার স্ট্যাটাসে লেখেন, “নবপ্রজন্মের আন্দোলনের মহানায়ক হিসেবে পরিচিত মাহফুজ, যার প্রতি অনেকেই ভরসা রেখেছিলেন, তার নাম এখন একটি বিতর্কের কেন্দ্রে। জন্মদেশের বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান মাহফুজের নামের পাশে আজ যোগ হচ্ছে বিতর্ক, ঠিক যেমনভাবে কিছুদিন আগে আলোচনায় এসেছিল হাতিয়ার হান্নান মাসউদ ও ‘ধরা খাওয়া’ সমন্বয়ক রিয়াদ।”
তিনি আরও লেখেন, “জানা গেছে, মাহফুজের আপন বড় ভাই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করে এবং পার্টটাইম ট্যাক্সি ড্রাইভারের কাজ করেন। মাহফুজের বিভিন্ন লবিং ও ফাইলিংয়ের কমিশনের অর্থ তার স্টুডেন্ট ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে জমা হচ্ছিল। গত ২৪ জুলাই মিডল ইস্ট থেকে পাঠানো সাড়ে ছয় কোটি টাকার একটি লেনদেন অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা AUSTRAC-এর নজরে আসে এবং ‘অস্বাভাবিক আর্থিক কার্যকলাপ’ হিসেবে সেটি চিহ্নিত হওয়ায় মাহির অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়।”
বনি আমিনের ভাষ্য, “এই অর্থ জন্মদেশের একটি প্রভাবশালী বেনিয়া গোষ্ঠীর প্রজেক্ট থেকে পাওয়া কমিশনভিত্তিক হিস্যা। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত জানানো যাচ্ছে না। অনেকেই এই ধরা খাওয়া লেনদেনকে বিগত B.A.L আমলের ‘ছাগল কাণ্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।”
অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি লেখেন, “আমার সুপারিশ, দেশে থাকা প্রতিটি সমন্বয়ক এবং তাদের প্রথম শ্রেণির আত্মীয়স্বজনের আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ বিবরণী জাতীয় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হোক। এর মধ্যে হাতিয়ার আলোচিত সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার, এমনকি শ্বশুরবাড়ির পক্ষের সম্পত্তিও রাষ্ট্রীয় তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”
পোস্টের শেষভাগে তিনি বলেন, “সময় এসেছে সততা ও আদর্শিক নেতৃত্বকে রক্ষা করার এবং দুর্নীতির বিষবৃক্ষকে মূল থেকে উপড়ে ফেলার।”
তবে, এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে মাহবুব আলম মাহি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের অ্যাকাউন্ট জব্দ করেনি, এবং আমার ব্যাংক লেনদেন সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মানুগ।” তিনি অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানিয়েছেন।
এই নিয়ে এখনো কোনো সরকারি বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: সোশ্যাল মিডিয়া
খবরওয়ালা/এসআই