খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া বাজারে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুই স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যাপক জনবিক্ষোভ ও অবরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত ছাত্রীদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ সহপাঠী ও স্থানীয় জনতা মহাসড়কে টায়ার ও বাঁশে আগুন জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ করে রাখে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ছুটির পর সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রী পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা দেওয়ার পর কাভার্ড ভ্যানটি সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা বাঁশের ওপর উঠে যায়। এতে দুই ছাত্রীই গুরুতর আঘাত পায়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ:
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে উত্তেজিত হয়ে বাঁশবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মহাসড়কে নেমে আসে। তারা সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাঁশ ও কাঠের দোকানগুলোকে এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করে। বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর বাঁশ ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়ে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ও আলটিমেটাম:
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে বাঁশ ও কাঠের দোকান স্থাপনের কারণে সাধারণ পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না। বাধ্য হয়ে তাদের মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়, যার ফলে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভস্থল থেকে স্থানীয়রা মহাসড়কের পাশ থেকে সকল অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য তিন ঘণ্টার আলটিমেটাম ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা:
ঘটনার খবর পেয়ে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এরপর ধীরগতিতে যান চলাচল শুরু হলেও দীর্ঘ যানজটের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।
দুর্ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| দুর্ঘটনার স্থান | বাঁশবাড়িয়া বাজার, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (ঢাকামুখী লেন) |
| সময় | মঙ্গলবার, বিকেল আনুমানিক ৪:৩০ মিনিট |
| হতাহত | ২ জন স্কুলছাত্রী (বাঁশবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়) |
| দুর্ঘটনার কারণ | দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা এবং ফুটপাতে অবৈধ দোকানের প্রতিবন্ধকতা |
| অবরোধের স্থায়িত্ব | প্রায় ২ ঘণ্টা (বিকেল ৪:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ পর্যন্ত) |
| প্রধান দাবি | মহাসড়কের পাশ থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা |
| প্রশাসনের ব্যবস্থা | হাইওয়ে ও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ |
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক জানান, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার বিষয়টি সত্য, তবে তাদের মৃত্যুর খবরটি গুজব ছিল। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।