খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার যানবাহনের মধ্যে এক ভয়াবহ ও মারাত্মক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মালবাহী ট্রাক, একটি মাইক্রোবাস এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘটিত এই চতুর্মুখী সংঘর্ষে এক নারী পথচারী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই তীব্র সড়ক দুর্ঘটনায় বিভিন্ন যানবাহনের অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। গত রবিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনায় মহাসড়কের পাশে থাকা নিহত ওই নারী পথচারীর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। নিহত নারীর নাম জারিয়া বেগম (৪৫)। তিনি সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অন্তর্গত মিয়াজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা জহরুল আলমের স্ত্রী। দুর্ঘটনার পর বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন।
অন্যদিকে, এই চার গাড়ির তীব্র সংঘর্ষের কারণে আহত অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে অনতিবিলম্বে চিকিৎসার জন্য সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহতদের মধ্যে ছয়জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ও আশঙ্কাজনক বলে প্রতীয়মান হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে মহাসড়কের ওই অংশে অতি দ্রুত দীর্ঘ ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা দূরপাল্লার সাধারণ যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় সচল করতে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
হাইওয়ে পুলিশের একটি দল বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও যন্ত্রপাতির সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে মহাসড়কের ওপর থেকে দ্রুত সরিয়ে পাশে নিয়ে রাখে। দুর্ঘটনাকবলিত সবকটি যানবাহন মহাসড়ক থেকে সম্পূর্ণ অপসারণ করার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার এই সামগ্রিক ও সত্যনিষ্ঠ বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. মিল্টন মণ্ডল। তিনি জানান, হাইওয়ে পুলিশের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে মহাসড়কের বড় ধরনের যানজট পরিস্থিতি দ্রুত নিরসন করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বাভাবিক নিয়মে যানবাহন চলাচল করছে।
নিচে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে ঘটে যাওয়া এই সড়ক দুর্ঘটনার মূল তথ্য ও সামগ্রিক পরিসংখ্যান একটি সহজ সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| দুর্ঘটনার বিভিন্ন খাত | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট ফ্যাক্ট ও পরিসংখ্যান |
| দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান | বাড়বকুণ্ড, সীতাকুণ্ড উপজেলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (চট্টগ্রামমুখী লেন) |
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | গত রবিবার, রাত আনুমানিক সোয়া ৯টা |
| জড়িত যানবাহনের বিবরণ | ১টি বাস, ১টি ট্রাক, ১টি মাইক্রোবাস এবং ১টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা |
| নিহতের বিবরণ ও পরিচয় | ১ জন নারী পথচারী (জারিয়া বেগম, বয়স: ৪৫ বছর, স্বামী: জহরুল আলম) |
| আহতের মোট সংখ্যা | অন্তত ১০ জন যাত্রী (৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে) |
| প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র | সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র | চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা | উপপরিদর্শক মো. মিল্টন মণ্ডল (বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা) |
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. মিল্টন মণ্ডলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত সবকটি যানবাহন বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।