খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাবনার সুজানগর পৌর বাজারে ঘটেছে এক শোচনীয় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা। নন্দিতা সিনেমা হল মার্কেট সংলগ্ন তেলের গোডাউনে তেল আনতে যাওয়া মুদি ব্যবসায়ী মোঃ রিপন হোসেন রবিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় অপহরণের শিকার হন। তার সঙ্গে থাকা ভাগিনা আলামিনও এ ঘটনায় সহমর্মী হয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সুজানগরের ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত কসিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ সবুজ হোসেন এবং তার সহযোগী অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জনের একটি দল ব্যবসায়ী রিপনকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের পিছনের পরিত্যক্ত স্থানে আটকে রেখে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় এবং নগদ ১০,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অপহরণকারীরা পরে মোবাইল ফোন (০১৭৫২-০৬২৫৯৬) এর মাধ্যমে রিপনের পিতা সিদ্দিক প্রামানিককে কল করে ৫০,০০০ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। শেষ পর্যন্ত পিতা ১০,০০০ টাকা প্রদান করলে রাত ৯টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সুজানগর পৌর বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অপহৃত ব্যবসায়ী রিপন হোসেন সুদৃঢ় তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
পাবনা সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমদ জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত সবুজ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি; তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
| ক্রমিক | বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|---|
| ১ | Opfer (অপহৃত) | মোঃ রিপন হোসেন, মুদি ব্যবসায়ী, চরতারাপুর ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া বান্নাইপাড়া গ্রামের সিদ্দিক প্রামানিকের ছেলে |
| ২ | সময় ও স্থান | ১ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা, সুজানগর পৌর বাজার নন্দিতা সিনেমা হল মার্কেটের পাশে তেলের গোডাউন |
| ৩ | অপহরণকারী | মোঃ সবুজ হোসেন (ভবানীপুর পূর্বপাড়া), অজ্ঞাত ৪-৫ জন |
| ৪ | মুক্তিপণ | ৫০,০০০ টাকা দাবি, ১০,০০০ টাকা প্রদত্ত |
| ৫ | আহত | মারধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত |
| ৬ | মুক্তি সময় | রাত ৯টা |
| ৭ | থানায় অভিযোগ | সুজানগর থানা, বাদী মোঃ রিপন হোসেন |
এ ঘটনার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তীব্র হয়ে উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।