খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৬ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সুনামগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক প্রথম শহীদ মিনারটি ভেঙে সেখানে নতুন করে একটি “স্মারকস্তম্ভ” নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই মিনারটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতীক—যা ভেঙে ফেলা মানে ইতিহাসের অবমাননা।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুরনো শহীদ মিনারের জায়গায় নতুন একটি আধুনিক স্মারক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই মূল শহীদ মিনারের কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পুরনো মিনারটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল, তাই সংস্কারের বদলে নতুন নকশায় স্মারক তৈরি করা হচ্ছে।
কিন্তু স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজ বলছেন, “সংস্কারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে।” তাঁদের দাবি, শহরের প্রথম শহীদ মিনারটি ১৯৫৩ সালে ভাষা আন্দোলনের পর স্থানীয় ছাত্রসমাজ ও সংস্কৃতি কর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করেছিলেন। বহু প্রজন্মের শ্রদ্ধা, স্মৃতি ও আত্মত্যাগের প্রতীক এই স্থাপনা আজ বিনা আলোচনায় ধ্বংস করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী লিজা আক্তার বলেন, “আমাদের শহরের প্রথম শহীদ মিনারটা শুধু ইট-সিমেন্টের গড়া নয়, এটা আমাদের অস্তিত্বের অংশ। সেটি না জানিয়ে ভেঙে ফেলা খুবই দুঃখজনক।”
সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর দাবি, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পৌরসভা ইতিহাস-সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই কাজটি শুরু করেছে। তাঁরা দ্রুত পুরনো শহীদ মিনারের স্থানে একই নকশায় পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন স্মারকটি আধুনিক নকশায় নির্মিত হবে, যেখানে ভাষা আন্দোলনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও স্থানীয় শহিদদের স্মৃতিচিহ্নও স্থান পাবে।
তবুও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—পুরনো মিনারটি অক্ষত রেখে তার পাশে নতুন স্মারক নির্মাণ করা যেত না কেন? স্থানীয়রা মনে করছেন, শহীদ মিনার ধ্বংসের মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের একটাই দাবি: “ইতিহাসের সাক্ষী শহীদ মিনার ভেঙে নয়, সংরক্ষণ করেই প্রজন্মকে ইতিহাস শেখানো হোক।”
খবরওয়ালা/এমএজেড