খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সুন্দরবনের শেলা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল এলাকায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলার একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য ওসমান গণিকে (৩৮) আটক করেছে। অভিযানটি স্থানীয় নিরাপত্তা ও বনদস্যু দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছে।
লে. কমান্ডার আবরার হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ওসমান গণিকে আটক করার পাশাপাশি তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।
| আলামত | পরিমাণ |
|---|---|
| একনলা বন্দুক | ১টি |
| তাজা কার্তুজ | ১৬ রাউন্ড |
| ফাঁকা কার্তুজ | ৫ রাউন্ড |
ওসমান গণি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং দলের ডাকাতি কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন। এছাড়া দলের অন্যান্য সদস্যদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করতেন।
লে. কমান্ডার আবরার হাসান আরও বলেন, “সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার জন্য কোস্টগার্ড বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক ও জব্দকৃত আলামত অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে বিশেষ নজরদারি এবং যৌথ অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হচ্ছে। অভিযান পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হলো বনদস্যুদের কার্যক্রম প্রতিহত করা এবং এলাকার সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোস্টগার্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “দস্যুদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
সুন্দরবন অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ জাগিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বনদস্যুদের সহায়তা করা ব্যক্তি এবং জঙ্গলে অস্ত্র-গোলাবারু সরবরাহকারী চক্রকে কঠোরভাবে দমন করলে দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ কমানো সম্ভব।
স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। জেলাজুড়ে বনদস্যু দমন অভিযান চালানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।