খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৪ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সুন্দরবনের লোনাপানিতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে চার জেলে অপহৃত হয়েছেন। তাঁদের মুক্তির জন্য মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করেছে বনদস্যুরা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা রেঞ্জের আঠারবেকি এলাকার একটি খালে কাঁকড়া ধরার সময় তাঁদের অপহরণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দস্যু আলিম বাহিনীর সদস্যরাই এ অপহরণের সঙ্গে জড়িত। অপহৃতদের মধ্যে একজন মুক্তিপণ পরিশোধ করে গতকাল রবিবার বাড়ি ফিরেছেন।
শ্যামনগর উপজেলার বড়ভেটখালী গ্রামের ইউসুফ গাজী জানান, তিনি ২০ নভেম্বর কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে নিজের নৌকায় মরগাং গ্রামের ইব্রাহিম শেখ ও আনিস শেখকে নিয়ে বনে প্রবেশ করেন। একইভাবে পাস নিয়ে মরগাং গ্রামের হাসান শেখ ও বড়ভেটখালী গ্রামের আবদুল গাজীও সুন্দরবনে ঢোকেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আঠারবেকি ভাইজো খালে কাঁকড়া ধরার সময় দস্যুরা তাঁদের নৌকা আটকে দেয়। তারা তিনটি নৌকা থেকে চারজনকে তুলে নেয়। পরে জানায়, মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে। গতকাল ভোরে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের পর দস্যুরা হাসান শেখকে একটি নৌকায় তুলে দেন। সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি পৌঁছান।
শ্যামনগর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাসেম মোরেল বলেন, সুন্দরবনে দস্যুতা আবারও বেড়েছে। ভেটখালী ও মরগাং গ্রামের বেশ কয়েকজন জেলে সম্প্রতি আঠারবেকি এলাকা থেকে অপহৃত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা হক বলেন, ‘জেলেরা আমাদের খুব কমই জানায়। মহাজন বা পরিবারের লোকজন মুক্তিপণ দিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে আনেন, পরে আমরা খবর পাই। দুর্গম বনের ভেতরে দ্রুত অভিযান চালানোও কঠিন। বনদস্যু দমনে একটি স্মার্ট পেট্রোল টিম ও দুটি বিশেষ দল মাঠে রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন