খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে চৈত্র ১৪৩২ | ৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বগুড়ার মনোরম পরিবেশে অবস্থিত পাঁচ তারকা হোটেল মম ইন-এ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হলো দেশের সংগীত জগতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’। জমকালো এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের শোভাবর্ধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তবে অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল মন্ত্রীর বক্তব্যে নয়, বরং তার কণ্ঠে গাওয়া গানে। চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের বিশেষ অনুরোধে তথ্যমন্ত্রী মঞ্চে দাঁড়িয়ে খালি গলায় গেয়ে শোনান কালজয়ী দেশাত্মবোধক গান— ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ, আমার মরণ বাংলাদেশ’। মন্ত্রীর সাবলীল ও আবেগঘন পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং অনুষ্ঠানের পরিবেশে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
পুরস্কার বিতরণের আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী সংগীতকে মানুষের চেতনার এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন:
“সংগীত হচ্ছে মানুষের সুকুমারবৃত্তিকে প্রবাহিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী এবং অনন্য মাধ্যম। মানুষের অনুভূতি প্রকাশের এই ভাষা এতটাই পবিত্র যে, এর মাধ্যমে কোনো অপরাধের বার্তা বিনিময় করা যায় না। এটি কেবল প্রকৃতির দেওয়া সেই অমল সুকুমারবৃত্তিকেই লালন করে যা আমাদের আত্মাকে শুদ্ধ করে।”
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে চ্যানেল আইয়ের এই দীর্ঘযাত্রার প্রশংসা করে উল্লেখ করেন যে, চ্যানেল আই দেশের শিল্পীসমাজকে যোগ্য সম্মান দিয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তিনি আরও মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির দীপশিখাকে প্রজ্বলিত রাখে, যার জন্য জাতি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
অনুষ্ঠানটিতে দেশের সংস্কৃতি ও সমাজসেবা খাতের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। তাদের সরব উপস্থিতি আসরটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত উল্লেখযোগ্য অতিথিবৃন্দ হলেন:
ফরিদুর রেজা সাগর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই।
শাইখ সিরাজ, বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও কৃষি উন্নয়ন কর্মী।
মুকিত মজুমদার, চেয়ারম্যান, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন (স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত)।
অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, নির্বাহী পরিচালক, টিএমএসএস।
সংগীতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর মোট ১৯টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সংগীতে দীর্ঘদিনের পথচলা ও অগণিত কালজয়ী গানের জন্য এ বছর আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা-কে। এছাড়া বাংলার লোকসংগীতকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন প্রবীণ শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য নিচে ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিভাগ | বিজয়ী/সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পী | মন্তব্যে |
| আজীবন সম্মাননা | কনকচাঁপা | সংগীতে দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতি। |
| বিশেষ সম্মাননা | কাঙালিনী সুফিয়া | লোকসংগীতের ঐতিহ্য রক্ষায় ভূমিকা। |
| আয়োজনের স্থান | হোটেল মম ইন, বগুড়া | দেশের একটি স্বনামধন্য পাঁচ তারকা হোটেল। |
| মোট বিভাগ | ১৯টি বিভাগ | আধুনিক, লোক, উচ্চাঙ্গসহ বিভিন্ন শাখা। |
| পৃষ্ঠপোষক | টিএমএসএস | সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে নিবেদিত। |
টিএমএসএস ও চ্যানেল আইয়ের এই যৌথ উদ্যোগ কেবল একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মহতী প্রচেষ্টা। উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ায় এ ধরনের জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রান্তিক ও মূলধারার সংস্কৃতির মধ্যে একটি মেলবন্ধন তৈরি করেছে। আজীবন সম্মাননা ও বিশেষ সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে প্রবীণ শিল্পীদের প্রতি যে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে, তা নবীন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। পরিশেষে, তথ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গানটি যেন দেশপ্রেম এবং সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয় হিসেবেই দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।