খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বালিয়া মোড়ে বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর থ্রি টন ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল কাকলি রাইস মিলের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থলে ঘটেছে।
নিহতরা হলেন:
সার্জেন্ট রেজাউল করিম, সেনাবাহিনীর ট্রাকচালক
আব্দুল বাসেত (৫০), যাত্রীবাহী বাসের চালক
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, সেনাবাহিনী তাদের ক্যাম্প কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহ ফেরার পথে ছিল। শেরপুরগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে উভয় যানবাহনের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৯ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৬ জনকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য ও আহতদের বণ্টন নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বর্ণনা | সংখ্যা | হাসপাতালে অবস্থান |
|---|---|---|
| নিহত | ২ | – |
| আহত | ১৫ | ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ: ৯, ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল: ৬ |
| মোট প্রভাবিত | ১৭ | – |
ওসি রাশেদুল হাসান আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে যানবাহনের অতিরিক্ত গতিসীমা, চালকের দৃষ্টি বা সড়ক সংকীর্ণতার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। বালিয়া মোড় এলাকায় চলাচলকারী বড় যান ও যাত্রীবাহী গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সংঘর্ষের ধাক্কা আরও মারাত্মক হয়।
দুর্ঘটনার কারণে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে দীর্ঘ সময় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় যানবাহন সরিয়ে নিয়ে গেলে সড়ক পুনরায় স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সড়কটি বড় যানবাহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আহতদের মধ্যে কেউ বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন কি না, তা নিয়ে হাসপাতালগুলোতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত আছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
এই দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে মিলনমেলা এবং বড় যানবাহনের চলাচলযুক্ত এলাকায় সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, সড়ক চিহ্ন ও জরুরি ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য।