খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে পৌষ ১৪৩২ | ৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব রক্ষা এবং এর পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ভবিষ্যৎ মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সেন্ট মার্টিনকে রক্ষা করার জন্য যত বড় মাস্টারপ্ল্যানই করা হোক না কেন, দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া তা সফল করা সম্ভব নয়।”
পরিবেশ উপদেষ্টার মতে, পর্যটন শিল্প এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সংরক্ষণ—এ দুটি বিষয়কে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সেন্ট মার্টিন কোনো সাধারণ বিনোদন কেন্দ্র বা হইহুল্লোড় করার জায়গা নয়; বরং এটি একটি ‘পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা’ (Ecologically Critical Area)। দ্বীপটিকে এর আদি প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য। বিশ্বের অনেক দেশেই প্রবাল দ্বীপের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় সেখানে পর্যটকদের রাতযাপন নিষিদ্ধ রয়েছে, যা বাংলাদেশেও আলোচনার দাবি রাখে।
সেন্ট মার্টিন রক্ষার মাস্টারপ্ল্যান ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত লক্ষ্য ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপ |
|---|---|
| মূল লক্ষ্য | দ্বীপটিকে পূর্বের আদি ও প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। |
| অগ্রাধিকার | ১. পরিবেশ সংরক্ষণ, ২. অর্থনীতি, ৩. পর্যটন। |
| পর্যটন ধরণ | স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক টেকসই পর্যটন। |
| কর্মসংস্থান | কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্বীপবাসীর বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি। |
| নিষেধাজ্ঞা | বারবিকিউ পার্টি, লাউডস্পিকার ব্যবহার এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা। |
| বিকল্প আবাসন | বড় হোটেল-রিসোর্টের পরিবর্তে স্থানীয়দের বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। |
| তদারকি | দ্বীপের ভাঙন রোধ, ভূমিক্ষয় ও নিয়মিত সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করা। |
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তাঁর বক্তব্যে বহিরাগত নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে দ্বীপের পরিবেশ ধ্বংসের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, দ্বীপের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে বড় বড় হোটেল বা রিসোর্ট নির্ভর পর্যটন থেকে সরে এসে স্থানীয় জনগণের মালিকানাধীন ‘কমিউনিটি বেজড’ পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে স্থানীয়রা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এবং দ্বীপের প্রতি তাঁদের মমত্ববোধও বৃদ্ধি পাবে।
উপদেষ্টা আরও জানান যে, সেন্ট মার্টিন রক্ষায় বর্তমানে পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তাবিত রয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে এই পরিকল্পনার সফলতার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে গভীর সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেন্ট মার্টিন প্রকৃতির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা, তাই পর্যটকদের আচরণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে হবে। দ্বীপের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে সরকারিভাবেই দ্বীপের ভাঙন, সংরক্ষণ এবং স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।