খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
ভাইরাল কন্টেন্ট এবং দ্রুত ও তীব্র সোশ্যাল মিডিয়া যোগাযোগের যুগে, স্বাস্থ্য বিষয়ক ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তি আরও বিস্তার লাভ করছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা যেকোনো তথ্যের জন্য কেবল এক ক্লিক দূরে। যদিও এটি সাধারণভাবে একটি ইতিবাচক উন্নয়ন, তবে এর মানে হলো যে আমরা যেকোনো বিষয়, বিশেষ করে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত, অবিশ্বাস্য, অচেক করা তথ্যের সম্মুখীন হতে পারি।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক তথ্য পরিবেশ প্যানেল (IPIE) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে “সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মালিকদের দ্বারা তথ্য পরিবেশের ওপর যে হুমকি তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।”
এসব প্ল্যাটফর্ম নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের ভিডিও, প্রবন্ধ এবং পোস্ট শেয়ার করে। তবে, সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার হওয়া তথ্যের জন্য কঠোর নিয়ম এবং নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে, এটি স্পষ্ট যে আমরা যা কিছু অনলাইনে শেয়ার হতে দেখি, তার মধ্যে অন্তত কিছু তথ্য ভুল বা এমনকি মিথ্যা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভুল তথ্য এবং মিথ্যা তথ্য (মিথ্যাচার) থেকে বাঁচতে এবং এগুলো চিহ্নিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অনুসরণ করা উচিত। যেমন-
১. বিশ্বস্ত উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য অনুসন্ধান করার সময়, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা (যেমন WHO, CDC) অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নির্ভরযোগ্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য প্রদান করে।
২. তথ্য যাচাই করুন
কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করুন। এটি বিভিন্ন উৎস থেকে যাচাই করতে পারে—যেমন গবেষণাপত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, অথবা বিশেষজ্ঞদের মতামত।
৩. ডক্টর বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা অন্যান্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। তারা আপনাকে সঠিক তথ্য দিতে পারবেন এবং মিথ্যাচার থেকে রক্ষা করতে পারবেন।
৪. সোশ্যাল মিডিয়াতে সতর্ক থাকুন
সোশ্যাল মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে, তবে এটি ভুল এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্যও পরিচিত। তাই সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখানো যেকোনো তথ্যকে স্বীকৃত উৎস থেকে যাচাই করতে হবে।
৫. সামাজিক চাপ বা আবেগের প্রভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন না
কোনো তথ্য যদি খুব আবেগপ্রবণ বা চাপের মধ্যে দিয়ে প্রচারিত হয়, তাহলে সেটা সচেতনভাবে যাচাই করুন। অনেক সময় মিথ্যাচার এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন সেটা আবেগের মাধ্যমে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে।
৬. বিজ্ঞানের ভিত্তিতে চিন্তা করুন
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য যদি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে না হয়, তবে তা সন্দেহের নজরে দেখুন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও গবেষণা প্রক্রিয়া মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে।
৭. ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের রিপোর্টিং টুল ব্যবহার করুন
ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেখা গেলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সেই বিষয়টি রিপোর্ট করা যায়, যাতে সেই তথ্যটি সঠিকভাবে যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।
এভাবে সচেতনতা এবং সঠিক উপায় অবলম্বন করে আমরা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভুল বা মিথ্যা তথ্য থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি।
খবরওয়ালা/আরডি