খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
পুরো নাম ধুন্ডীরাজ গোবিন্দ ফালকে—যিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন “দাদাসাহেব ফালকে” নামেই। তিনি কেবল একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা নন; তিনি এক স্বপ্নদ্রষ্টা, এক অগ্রদূত, যার হাত ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সূচনা।
১৮৭০ সালের ৩০ এপ্রিল মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বরে এক মারাঠি ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। শৈশব থেকেই তাঁর শিল্প, মুদ্রণকলা, আলোকচিত্র এবং নাট্যকলার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি মুম্বাইয়ের স্যার জে জে স্কুল অব আর্ট-এ শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মুদ্রণ ও আলোকচিত্র বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। জীবনের এক পর্যায়ে তিনি ছাপাখানার কাজও করেছেন এবং সেখানে থেকে প্রযুক্তি ও নকশা বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
১৯১১ সালে তিনি একটি বিদেশি ধর্মীয় চলমান চিত্র প্রদর্শনী দেখেন, যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে অনুপ্রাণিত করে ভারতীয় কাহিনি ও পুরাণকে চলমান ছবির মাধ্যমে উপস্থাপনের স্বপ্ন দেখতে। এরপর তিনি ইউরোপে যান, প্রযুক্তি, চিত্রগ্রহণ ও চলচ্চিত্র নির্মাণের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন এবং দেশে ফিরে নিজের উদ্যোগে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন।
১৯১৩ সালে তাঁর নির্মিত “রাজা হরিশচন্দ্র” ছিল ভারতের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য নির্বাক চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্র শুধু একটি নতুন শিল্পমাধ্যমের সূচনা করেনি, বরং ভারতীয় পুরাণ ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে জনমানসে তুলে ধরার পথও তৈরি করে। এতে তাঁর স্ত্রী সরস্বতী ফালকে-সহ পরিবারের সদস্যরাও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন।
পরবর্তী প্রায় ২৪ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি মোট ৯৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য এবং ২৬টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে “মোহিনী ভস্মাসুর”, “সত্যবান সাবিত্রী”, “লঙ্কা দহন”, “শ্রী কৃষ্ণ জন্ম”, “কালীয় মর্দন”, “সেতু বন্ধন” এবং “গঙ্গাবতরণ”। প্রতিটি কাজে তাঁর কল্পনাশক্তি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শিল্পবোধের অসাধারণ সমন্বয় দেখা যায়।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৯ সালে “দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার” প্রবর্তিত হয়, যা আজও সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে বিবেচিত। এই পুরস্কার চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।
১৯৪৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এই মহান শিল্পীর জীবনাবসান ঘটে। তবে তাঁর সৃষ্টি ও দর্শন আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিটি ধাপে অনুপ্রেরণা জোগায়। দাদাসাহেব ফালকে আমাদের শিখিয়ে গেছেন—সাহস, পরিশ্রম এবং স্বপ্ন থাকলে অসম্ভবকেও বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়।