খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে একটি ‘অস্বস্তিকর গোপন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো স্বীকার না করলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করেছেন, ইসরায়েলের কাছে উল্লেখযোগ্য পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে। এই নীতিকে বলা হয় ‘নিউক্লিয়ার অপাসিটি’—যেখানে অস্ত্রের অস্তিত্ব নিয়ে না স্বীকার, না অস্বীকার দুই অবস্থানই বজায় রাখা হয়।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে আনুমানিক ৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে। এগুলো বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অনুমানিত পারমাণবিক অস্ত্র সংখ্যা | প্রায় ৮০টি |
| বহন সক্ষম মাধ্যম | যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র |
| আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি | নেই |
| নীতি | নিউক্লিয়ার অপাসিটি |
| লক্ষ্যভূমি | প্রতিরক্ষা ও চরম পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া |
ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির কেন্দ্রে রয়েছে অস্তিত্ব সংকটের ভয়। ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ থেকে শুরু করে, বর্তমান ইরান, গাজা ও লেবাননকে ঘিরে সংঘাত—সবকিছুকে দেশের নেতারা প্রায়শই জাতীয় অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই মানসিকতা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের অধিকাংশ পারমাণবিক নীতিতে এসব অস্ত্র মূলত প্রতিরোধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে ইসরায়েলের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি রাষ্ট্রটি অস্তিত্বহুমকির মুখে পড়ে, তবে অ-পরমাণবিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হতে পারে।
কৌশলগত আলোচনায় ‘স্যামসন অপশন’ নামে পরিচিত একটি নীতি রয়েছে—যেখানে চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখে পড়লে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকলেও এর যুক্তি স্পষ্ট: রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে চরম প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের বহুমুখী সংঘাত—গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরান—পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের সম্ভাবনা কেবল তাত্ত্বিক নয়। নেতৃত্ব যদি এটিকে অস্তিত্বসংকটের লড়াই হিসেবে দেখে, তবে চরম সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিক বাধা কমতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী নয় এবং স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় নেই। ফলে এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি ব্যতিক্রমী বাস্তবতা তৈরি করেছে।
গাজায় সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানও নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, প্রচলিত অস্ত্র দিয়েই এত ব্যাপক ধ্বংস সম্ভব, তবে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমা কোথায়—সেই প্রশ্ন ক্রমেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘স্যামসন অপশন’ ধারণাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।