খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিদেশফেরত প্রবাসী, পর্যটক কিংবা কূটনৈতিক—সবাই এখান থেকেই বাংলাদেশের প্রথম পরিচয় পান। তবে সেই পরিচয় আজ উদ্বেগ ও হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
বিমানবন্দরে নানামুখী অব্যবস্থাপনা, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নান্দনিকতার অভাব এবং যাত্রীসেবার ঘাটতি দেশ ও জাতির ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর এলাকায় হর্ন বাজানো নিষেধ হলেও বাস্তবে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। ভিআইপি, মিডিয়া, এমনকি সাধারণ গাড়িও নিয়ম তোয়াক্কা না করে অবিরত হর্ন বাজিয়ে চলেছে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকেও অসন্তোষ ঝরে পড়ে। পর্যাপ্ত স্ক্যানিং না থাকায় এবং প্রবেশপথে র্যান্ডম চেকিংয়ের অভাবে যাত্রীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। এতে বড় ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে তুলনা করলে শাহজালালের বাস্তবতা রীতিমতো হতাশাজনক। সৌন্দর্যবর্ধনের কোনো ছোঁয়া নেই, নেই পরিচ্ছন্নতা। প্রবেশপথে চোখে পড়ে ধুলাবালি, ভাঙা ফুটপাত, অপরিষ্কার রাস্তাঘাট ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ।
প্রবাসী যাত্রীদের একজন জানান, “প্রতিবার দেশে ফিরেই মনে হয় আমরা যেন পিছিয়ে আছি। এয়ারপোর্টটাই একটা দেশের প্রথম মুখ, কিন্তু এখানে সেই পরিচয়ের ছিটেফোঁটাও নেই।”
এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (CAAB) একজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “বিমানবন্দরে বিভিন্ন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। আশা করি খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানান, “ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ হলেও গত বছর প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “লোকবল সংকট ও চলমান আন্ডারপাস নির্মাণের কারণে কিছু সেবা বিঘ্ন হচ্ছে। তবে সবকিছু ঠিকঠাক হলে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশার বাণী শোনাচ্ছেন, বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন। যাত্রীদের প্রতিদিনকার ভোগান্তি, নিরাপত্তা ত্রুটি এবং নানাবিধ অব্যবস্থাপনা এখনই দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানায়। দেশের মুখ হিসেবে পরিচিত এই বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়ন আর বিলম্ব সহ্য করার সময় নয়।
খবরওয়ালা/টিএস