খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে চৈত্র ১৪৩২ | ২১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এই নৌপথের বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি পারাপার হতো, কিন্তু এখন সংখ্যা সীমিত হয়ে মাত্র ৫–৬টির মধ্যে নেমেছে।
বিবিসি ভেরিফাই-এর সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি মার্চে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র ৯৯টি জাহাজ, যা আগের গড়ে চলাচলের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কম। এই অস্বাভাবিক কম চলাচল মূলত যুদ্ধে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে।
‘জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সরবরাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পারাপার হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক জাহাজ এখনও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে, বিশেষত ইরান ও তার মিত্র দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলি।
শিপিং অ্যানালিস্ট ‘কেপলার’-এর উপাত্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২০ দিনে এই নৌপথ অতিক্রম করা জাহাজগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইরানি। এর মধ্যে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ ছিল ১৪টি। এছাড়া ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞায় থাকা কিছু জাহাজও চলাচল করেছে। অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| জাহাজের ধরন | সংখ্যা | মালিকানা / দেশ | লক্ষ্যস্থান |
|---|---|---|---|
| ইরানি পতাকাবাহী | ১৪ | ইরান | অজ্ঞাত / মধ্যপ্রাচ্য |
| চীনা প্রতিষ্ঠান | ৯ | চীন | ইরান ও পার্শ্ববর্তী দেশ |
| ভারতীয় গন্তব্য | ৬ | বিভিন্ন | ভারত |
| পাকিস্তানি তেল ট্যাঙ্কার | ১ | পাকিস্তান | ইরান উপকূলের নিকট |
| গ্রিক মালিকানাধীন | কয়েকটি | গ্রিস | ইরানি বন্দরে নোঙর |
নাবিকরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতে প্রচলিত রুট পরিবর্তন করছে, যার ফলে জাহাজগুলোর পথের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৫ মার্চ পাকিস্তানের একটি তেল ট্যাঙ্কার ইরান উপকূলের খুব কাছ দিয়ে যাতায়াত করেছে, মূলত হামলা থেকে বাঁচতে এবং রাডারের নজর এড়াতে।
হরমুজ প্রণালির চলাচল হ্রাসের প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে সাধারণ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুনভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে তেলের দাম ও পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।