বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি–রপ্তানি এবং প্রবাসী আয়—সব ক্ষেত্রেই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ফলে প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবার এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় হার সামান্য ওঠানামার মধ্য দিয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা-সরবরাহ এবং বিভিন্ন দেশের আর্থিক নীতির প্রভাব সরাসরি এই হারকে প্রভাবিত করে।
আজকের হালনাগাদ অনুযায়ী মার্কিন ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় হার উভয়ই ১২২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয় মূল্য ১৪৪ টাকা ৩১ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১৪৪ টাকা ৩৫ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয় মূল্য ১৬৬ টাকা ৮১ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১৬৬ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।
এছাড়া এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাগুলোর মধ্যেও স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। জাপানি ইয়েন, অস্ট্রেলীয় ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, কানাডীয় ডলার, ভারতীয় রুপি এবং সৌদি রিয়ালের বিনিময় হারও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রয়েছে।
আজকের প্রধান মুদ্রার হার (২০ এপ্রিল ২০২৬)
| মুদ্রার নাম |
ক্রয় মূল্য (টাকা) |
বিক্রয় মূল্য (টাকা) |
| মার্কিন ডলার |
১২২.৭০ |
১২২.৭০ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড |
১৬৬.৮১ |
১৬৬.৮৭ |
| ইউরো |
১৪৪.৩১ |
১৪৪.৩৫ |
| জাপানি ইয়েন |
০.৭৭ |
০.৭৭ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার |
৮৭.৯২ |
৮৭.৯৭ |
| সিঙ্গাপুর ডলার |
৯৬.৫৬ |
৯৬.৬৪ |
| কানাডীয় ডলার |
৮৯.৬০ |
৮৯.৬০ |
| ভারতীয় রুপি |
১.৩২ |
১.৩২ |
| সৌদি রিয়াল |
৩২.৭৭ |
৩২.৭৯ |
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের ওঠানামা না থাকলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, তেলের দাম, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বিনিময় হারে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য ডলারের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতির বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে প্রতিদিনের বিনিময় হার শুধু ব্যাংক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা হলেও হ্রাস পেতে পারে।