খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সহরবানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারেছা আক্তার আঁখিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে খান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারিয়া আক্তার পিংকির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে গৌরীপুর-বেখৈরহাটি আঞ্চলিক সড়কের দাড়িয়াপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর সহরবানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে খান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেরাও করে। এতে ভয়ে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে আঁখি ও পিংকি একই অটোরিকশায় ওঠেন। সিট নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে পিংকি আঁখিকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় পথিক নামের এক যুবককেও মারধর করেন তিনি। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে আঁখির সহপাঠী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে।
অটোরিকশায় থাকা সহকারী শিক্ষক গৌতম চন্দ্র রায় বলেন, ‘পিংকি ম্যাডাম অটোতে খুব বাজে আচরণ করেন। এক যুবক ও সহকারী শিক্ষক আঁখিকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারেন। একজন শিক্ষক কিভাবে আরেক শিক্ষককে মারতে পারেন, তা বোঝা যায় না।’
অন্য সহযাত্রী স্বপ্না বেগম বলেন, “পিংকি হঠাৎ পথিক নামের যুবককে থাপ্পড় মারেন। আঁখি শুধু ‘পাগল নাকি’ বলায় তাকেও চড় মারেন এবং হিজাব টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করেন।’
সহরবানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়। শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে, পরে আমি শান্ত করি। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।’
খান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা আক্তার বলেন, “হঠাৎ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে দরজা-জানালায় ধাক্কাধাক্কি করে। এতে ছোট শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়। আমাদের শিক্ষিকার অপরাধ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা হোক, তবে শিক্ষার্থীদের এভাবে মিছিল করা সঠিক হয়নি।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ‘অভিযোগের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দুই পক্ষের কথা শুনেছি। সহরবানু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলেও শান্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা পিংকির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এলে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড