খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
বীমা পেশাজীবী ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল আইডিআরএ’র (বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ) আচরণকে প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন। ২০২৩ সালে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে তার অপসারণের আদেশ এবং পরে সেই আদেশ সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আশ্বাস অমান্য করা এই অভিযোগের মূল।
ড. মণ্ডল জানান, আইডিআরএ’র দুই সদস্য—আবু বকর সিদ্দিক (নন-লাইফ) ও আপেল মাহমুদ (লাইফ)—মৌখিকভাবে তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি যদি মামলা দুটি প্রত্যাহার করেন, তাহলে অপসারণ আদেশ বিনাশর্তে প্রত্যাহার করা হবে এবং পুনরায় তিনি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এই আশ্বাসে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর ড. মণ্ডল মামলা প্রত্যাহার ও প্রয়োজনীয় আবেদন আইডিআরএ’র কাছে দাখিল করেন।
কিন্তু তিন মাস পর, ২০২৬ সালের ১ মার্চ আইডিআরএ চারটি শর্ত সংযুক্ত করে নতুন সংশোধিত আদেশ জারি করে। আদেশে বলা হয়, ড. মণ্ডল যমুনা লাইফ ও হোমল্যান্ড লাইফে কোনো পদে নিয়োজিত হতে পারবেন না এবং এক বছর কোনো বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।
আইন বিশেষ করে বীমা আইন ২০১০-এর ধারা ৫০ অনুযায়ী, অপসারণ আদেশ বাতিল বা সংশোধন করতে পারে, তবে শর্ত আরোপের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ ক্ষেত্রে আইডিআরএ’র এই শর্ত আরোপ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
| তারিখ | ঘটনা | প্রভাব/মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১৬ অক্টোবর ২০২৩ | হোমল্যান্ড লাইফ থেকে অপসারণ আদেশ | বিশেষ নিরীক্ষককে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে অপসারণ, বাস্তবে পরিচালকদের দ্বন্দ্ব ছিল মূল কারণ |
| ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা আদেশ | ড. মণ্ডল মুখ্য নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারবে না, কোম্পানি সিইও নিয়োগ দিতে পারবে না |
| ৯ নভেম্বর ২০২৫ | আইডিআরএ’র সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা | মামলা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপটে আশ্বাস প্রদান |
| ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | মামলা প্রত্যাহার ও আবেদন দাখিল | সার্টিফাইড কপিসহ আইডিআরএ’র কাছে দাখিল |
| ১ মার্চ ২০২৬ | সংশোধিত অপসারণ আদেশ | চারটি শর্তসহ জারি, এক বছরের সিইও পদে নিয়োগে বিধিনিষেধ |
ড. মণ্ডল অভিযোগ করেন, লন্ডন প্রবাসী সিলেটের পরিচালকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং তাদের অনৈতিক আর্থিক সুবিধার দাবি না মেলায় অপসারণের আদেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আইডিআরএ’র সদস্যরা আমাকে নিশ্চিত করেছিলেন মামলা প্রত্যাহার করলে অপসারণ আদেশ প্রত্যাহার হবে, কিন্তু পরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এটি আমার সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।”
আইডিআরএ’র এই আচরণ বীমা খাতের পেশাজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে এবং সংস্থার ওপর আস্থা কমাবে।
আইডিআরএ’র সদস্য (লাইফ) আপেল মাহমুদ ও সদস্য (নন-লাইফ) আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাক্ষাৎকার দেননি।
ড. মণ্ডলের অভিযোগ এবং আইডিআরএ’র পদক্ষেপ বীমা খাতের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে এটি পেশাজীবী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।