খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্তত ১৪টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন রয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, হামলার শিকার পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে ঘরবাড়ির মালামাল, গবাদিপশু ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন।
আলদাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি খিলালগঞ্জ বাজার এলাকাতেও পুলিশ-সেনা যৌথভাবে টহল দিচ্ছে।
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান জানান, এক কিশোর ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে শনিবার রাতে তাকে আটক করা হয়। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিয়ে আদালতের নির্দেশে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরকে থানায় নেওয়ার পর উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। রাত ১০টার দিকে একদল লোক তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরদিন রবিবার বিকেলেও কয়েকটি বাড়িতে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের একজন, কমলাকান্ত রায় বলেন, ‘রাতভর জেগে ছিলাম। সকাল থেকে মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছি। ১০-১২ মণ ধান ছিল, বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছি।’ তাঁর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নারী জানান, তাদের আত্মীয়রা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
রবীন্দ্রনাথ রায় নামের আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীর এক ভরি স্বর্ণ, কাপড়চোপড় ও জমির কাগজপত্র লুট হয়েছে। স্ত্রী রোহেলা রাণী বলেন, ‘আবার যদি আগুন দেয়, কিছুই থাকবে না।’
আলদাদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালী রঞ্জন রায় জানান, ‘বিদ্যালয়ের ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সনাতন ধর্মাবলম্বী। গতকাল ছুটি দেওয়া হয়েছে। আজও কেউ আসেনি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজ দুপুরের পর আবার মিছিলের হুমকি এসেছে। আতঙ্কে অনেকেই আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, ‘গতকাল রাতে জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলায় কিশোরগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দারা সম্পৃক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির তালিকা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে কাজ চলছে।’
ওসি আল এমরান জানান, এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি কিংবা কাউকে আটক করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআই