হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু আক্রান্ত এক হাজার বত্রিশ
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৩২ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের বিষয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই সময়সীমার মধ্যে মৃত্যুর ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুবরণকারী তিন শিশুর মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেটে। এ সময়ের মধ্যে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে। এর মধ্যে ৫২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে, আর ৯১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর। একই সময়ে দেশে মোট ৭৭ হাজার ৭৯১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মোট ৬৩ হাজার ১৩৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৫৮ হাজার ৯৬৪ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বা পর্যবেক্ষণে আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য আরও বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৯ হাজার ৬২০ শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন শিশুদের চিকিৎসা কার্যক্রম বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলমান রয়েছে।
হামের উপসর্গ ও সংক্রমণ পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
বিষয়
সংখ্যা
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত
১,০৩২ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু
৩ জন
মোট মৃত্য (১৫ মার্চ থেকে)
৬১৩ জন
হামের উপসর্গে মৃত্যু
৫২২ জন
হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু
৯১ জন
মোট আক্রান্ত (উপসর্গসহ)
৭৭,৭৯১ জন
হাসপাতালে ভর্তি
৬৩,১৩৪ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা
৫৮,৯৬৪ জন
নিশ্চিত হাম শনাক্ত
৯,৬২০ জন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো টিকা গ্রহণ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বর্তমান প্রতিবেদনে কেবল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানই উপস্থাপন করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়ার কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগী ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সরকারি পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে মনিটর করা হচ্ছে।