বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন এক ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোররাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। মৃত শিশুর নাম হুমায়রা। তার পরিবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাসিন্দা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে হামের উপসর্গ—বিশেষ করে শরীরে র্যাশ, জ্বর এবং শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। একই ওয়ার্ডে বর্তমানে আরও কয়েকজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা, আক্রান্তদের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকায় বিশেষভাবে আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।
শজিমেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও উপপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ১০ জন শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটি প্রকৃতপক্ষে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে রক্ত ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের পরই নিশ্চিত রোগ নির্ণয় জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে হাসপাতালটি একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে। তবে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে শিশু রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) প্রয়োজন হয়, যা এই হাসপাতালে পর্যাপ্তভাবে নেই। বিশেষ করে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ না থাকায় গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সহায়তার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালেও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসার প্রবণতা দেখা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে সাতজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে একজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। ভর্তি রোগীর নমুনাও পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসার তথ্য পাওয়া গেছে। গত এক মাসে বগুড়ার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মোট ২৬ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ সাধারণত টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতি, জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশ এবং শীতকালীন সংক্রমণ বৃদ্ধির সময় বেশি ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে।
নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| চিকিৎসা কেন্দ্র |
রোগীর সংখ্যা |
ভর্তি |
মৃত্যু |
পরীক্ষা অবস্থান |
| শজিমেক হাসপাতাল |
১০ শিশু |
আইসোলেশনে |
১ জন |
নমুনা পরীক্ষাধীন |
| মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল |
৭ জন |
১ জন ভর্তি |
নেই |
নমুনা ঢাকায় প্রেরিত |
| উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (১১টি) |
২৬ জন (মাসে) |
নেই |
নেই |
২ জন নিশ্চিত |
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।