খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৭ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে বালু উত্তোলনের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় বালু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেডও জব্দ করা হয়।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নদীর চট্টগ্রামের হাটহাজারী অংশের দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া কাটাখালী খাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন ভোলা জেলা সদরের মুহাম্মদ সোলায়মান (২২) এবং একই জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মানজাদ গ্রামের মুহাম্মদ কালাম (৩২)। পুলিশ জানায়, তারা ওই বাল্কহেডের শ্রমিক। পরে আজ বৃহস্পতিবার আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, হাটহাজারীর ওই এলাকায় স্থানীয় রামদাস মুন্সিরহাট নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রমজান আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়। এরপর দিবাগত রাত ১২টার দিকে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। হালদায় বালু উত্তোলনের দায়ে এটি নৌ পুলিশের প্রথম মামলা।
এর আগে সোমবার বিকেলে একই এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানেও একটি বালুভর্তি বাল্কহেড জব্দ করা হয় ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নগরীর চান্দগাঁও থানার কালুরঘাটের মুহাম্মদ ইউচুপ, মুহাম্মদ হান্নান ও মুহাম্মদ সবুজ।
হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন জানায়, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। নদীতে কোনো যান্ত্রিক নৌযান চলাচলও নিষিদ্ধ। তবুও কিছু ব্যবসায়ী এ নিষেধ অমান্য করে বালুবাহী বাল্কহেড দিয়ে বালু পরিবহন ও বিক্রি করছেন। এজন্য অভিযান চালানো হয়।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মুমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী দেশের জাতীয় ঐতিহ্য, এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রশাসন এবং স্থানীয়দের।’
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কয়েক দিন ধরে নদীতে আবার বালু উত্তোলনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে নৌ পুলিশ প্রথম মামলা করেছে, যা ভালো দিক। মামলার ভয়ে বালু ব্যবসায়ীরা আগের তুলনায় কম সক্রিয় হতে পারেন।’
খবরওয়ালা/টিএসএন