খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে পৌষ ১৪৩২ | ২১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রায় এক দশক পার হলেও রাজধানী ঢাকা এখনও অমীমাংসিত হত্যার ছায়া থেকে মুক্তি পায়নি। রামপুরার আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় খুন হন আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার মিথুন। ২০১৫ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়, কিন্তু সাক্ষীর অভাবে খুনিদের সনাক্ত করা যায়নি। এমন ধরণের হত্যাকাণ্ড রাজধানীতে আরও ঘটেছে, যেখানে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, একাধিক হত্যার ক্লু আজও পাওয়া যায়নি।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১০ বছরেরও বেশি সময়ে দেশের ১,৩০০টির বেশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেও অপ্রাপ্তি হয়েছে। ফাহমিদার হত্যার মামলার তদন্ত ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে শেষ হয়। তদন্তের দায়িত্ব পালন করেছেন পরিদর্শক নুরুন্নবী।
এমনই অন্য একটি ঘটনা ২০১৩ সালের মার্চে, বিশিষ্ট সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছোট ভাই মিরাজ আহমেদ খিলক্ষেত কুড়িল বিশ্বরোডের পাশে রেললাইনের কাছ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শুরুতে ডিবি দায়িত্বরত থাকলেও পরে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৫ সালে তৎকালীন পরিদর্শক রেজাউল করিম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
২০১৫ সালের ১৩ মে পল্লবীর নিজের ফ্ল্যাটে গৃহবধূ সুইটি আক্তার ও তার মামা আমিনুল ইসলাম নিহত হন। মামলা প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে থাকলেও তিন বছর পর সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। খুনিদের সনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রদান করা হয়। পরে আদালত পুনরায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের জন্য পাঠায়।
তদন্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, “থানা পুলিশ ও ডিবি যদি প্রাথমিক আলামত সঠিকভাবে সংগ্রহ করত, খুনিরা হয়তো চিহ্নিত হতো। তবে তৎকালীন অবস্থায় কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।” পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, “আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো আলামত না থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছি। ভবিষ্যতে যদি নতুন কোনো তথ্য আসে, পুনঃতদন্ত করা হবে।”
এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যেমন মগবাজার, হাজারীবাগ ও পূর্ব রাজাবাজারে আরও কিছু রহস্যময় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে একাধিক মামলা তদন্তে সিআইডির তৎকালীন কর্মকর্তা অন্তত পাঁচবার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি।
রাজধানী ঢাকার হত্যার এই দীর্ঘ তালিকা স্পষ্টভাবে দেখায়, দেশের অপরাধ তদন্ত প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। তদন্ত সংস্থাগুলো ক্লু সংগ্রহে ব্যর্থ হলেও পরিবারগুলো এখনও বিচার এবং সত্য উদ্ঘাটনের আশায় রয়েছেন।