খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৫ সালে সারাদেশে মোট ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে, যা দিনে গড়ে ৭৫টির বেশি। এই অগ্নিকাণ্ডে ২৬৭ জন আহত ও ৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ বৈদ্যুতিক গোলযোগ। এছাড়া বিড়ি ও সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা, চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার এবং সরবরাহ লাইনের লিকেজও উল্লেখযোগ্য কারণ। ২০২৫ সালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের পরিমাণ ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকা, তবে আগুন নেভানোয় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার ৯১৬ টাকা সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
| কারণ | ঘটনা সংখ্যা | শতাংশ (%) |
|---|---|---|
| বৈদ্যুতিক গোলযোগ | ৯,৩৯২ | ৩৪.৭১ |
| বিড়ি/সিগারেট | ৪,২৬৯ | ১৫.৭৮ |
| চুলা | ২,৯০৯ | ১০.৭৫ |
| গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ | ৯২০ | ৩.৪০ |
| সরবরাহ লাইন লিকেজ | ৫৬২ | ২.০৮ |
| গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ | ১২১ | ০.৪৫ |
| রাসায়নিক দুর্ঘটনা | ৩৮ | ০.১৪ |
| শিশুদের খেলা | ৬০৮ | ২.২৫ |
| উত্তপ্ত ছাই | ৩৫৬ | ১.৩২ |
| কয়েল | ৪৯৩ | ১.৮২ |
| আতশবাজি/ফানুস/পটকা | ১০৯ | ০.৪০ |
সর্বাধিক অগ্নিকাণ্ড বাসা-বাড়ি ও আবাসিক ভবনে ঘটে। ২০২৫ সালে বাসাবাড়িতে ৮,৭০৫টি আগুন লেগেছে, যা মোট ঘটনার ৩২.১৭%। এছাড়া খড়ের গাঁদা ৩,৯২২টি, দোকান ১,৮০০টি, হাট-বাজার ১,০৬৭টি এবং শপিং মলে ৬১৭টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
| স্থান | অগ্নিকাণ্ড সংখ্যা |
|---|---|
| বাসা/আবাসিক ভবন | ৮,৭০৫ |
| খড়ের গাঁদা | ৩,৯২২ |
| দোকান | ১,৮০০ |
| হাট-বাজার | ১,০৬৭ |
| শপিং মল | ৬১৭ |
| পোশাক শিল্প | ৬৬৫ |
| কলকারখানা (পোশাক ব্যতীত) | ৬১৫ |
| গ্যাস সিলিন্ডার দোকান | ৪৮৩ |
পরিবহন ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে মোট ৩৮৬টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার মধ্যে বাসে ১৫৩টি, অন্যান্য যানবাহনে ২১৬টি, ট্রেনে ১০টি, লঞ্চে ৪টি, জাহাজে ২টি এবং প্রশিক্ষণ বিমানে ১টি।
মাস ভিত্তিক অগ্নিকাণ্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর (২,৭২৪), জানুয়ারি (২,৭০৮), ফেব্রুয়ারি (২,৮৮৫) ও মার্চ (৩,৫২২) মাসে সর্বাধিক আগুন লাগে। এই চার মাসে গড়ে প্রতিদিন ১২৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আহত ও নিহতের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। ২৬৭ জন আহতের মধ্যে ১৯৭ জন পুরুষ, ৭০ জন নারী; নিহত ৮৫ জনের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ, ৩৯ জন নারী। সর্বাধিক হতাহতের স্থান হলো বাসা-বাড়ি (আহত ৭৭, নিহত ২২), রাসায়নিক দুর্ঘটনা (আহত ২, নিহত ১৮) ও বিমানের অগ্নিদুর্ঘটনা (আহত ১১৬, নিহত ৩৫)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ২০২৫ সালে ১০,১৪০টি দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে ১০,৩৩৩ জন আহত ও ১,৭৫৬ জন মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া ২৯৬টি পশু, ৩০টি পাখি ও ২২৯টি অন্যান্য প্রাণীও রক্ষা করা হয়েছে।
সর্বশেষ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ২০২৫ সালে ১০,৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করে ৩,৩১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ, ৬২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬,৫৯৫টি সন্তোষজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ১৯২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা এবং ৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।