খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ২০টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কামরুল ইসলাম ওরফে ‘খোঁড়া’ কামরুলকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেফতারকৃত কামরুল যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা এলাকার আব্দুল আজিজের পুত্র। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যশোর ও তার আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বিগত ৬ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ খালিদুর রহমান টিটু ও শেখ মইনুদ্দিন ফেরদৌস নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের সঙ্গে খোঁড়া কামরুলের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা ডিবি পুলিশ কামরুলকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (৩০ মে) বিকেলে যশোর শহরের মিশনপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। রোববার (৩১ মে) সকালে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশি তদন্ত ও প্রেস ব্রিফিংয়ের বিবরণ অনুযায়ী, আটক কামরুল যশোর শহরের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যের অন্যতম প্রধান যোগানদাতা হিসেবে কাজ করতেন। যশোর এবং এর আশপাশের জেলা ও এলাকাগুলোতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাবেচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে কোতোয়ালি থানায় একাধিক সহিংস অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কামরুলের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ও চলমান মামলার বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| মামলার ধরন | মামলার সংখ্যা |
| হত্যা মামলা | ১টি |
| অস্ত্র আইনের মামলা | ৬টি |
| বিস্ফোরক আইনের মামলা | ৪টি |
| চাঁদাবাজি মামলা | ৭টি |
| বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা | ১টি |
| মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা | ১টি |
| মোট মামলার সংখ্যা | ২০টি |
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান যে, কামরুল ইসলামের মতো চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারের ফলে ওই অঞ্চলে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের অবৈধ বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।