খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) সারা দেশের ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রতীক পাওয়ার মধ্য দিয়েই প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত হলো। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে প্রতীক পাওয়ার পর এখন প্রার্থীরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় চূড়ান্ত প্রচারণার ডামাডোল বাজানোর অপেক্ষায় আছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। তবে এই প্রচারণার ক্ষেত্রে ইসি কর্তৃক নির্ধারিত ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা দল ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে প্রচারণা শুরু করতে পারেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচারণা সমাপ্ত করতে হয়।
নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি ও সময়সূচি:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী | ১,৯৭৩ জন (২৯৮টি আসনে)। |
| প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন | ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বুধবার)। |
| প্রচারণা শুরু | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)। |
| ভোটগ্রহণের তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)। |
| ভোটগ্রহণের সময় | সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ (বিরতিহীন)। |
| ভোটের পদ্ধতি | ব্যালট পেপার ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। |
| মনোনয়নপত্র দাখিল | ২,৫৮০টি (মোট ৩০০ আসনে)। |
এবারের নির্বাচনে ৩০০টি আসনে মোট ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। প্রাথমিক বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১ হাজার ৮৫৫টি আবেদন বৈধ ঘোষণা করেন এবং ৭২৫টি আবেদন বাতিল করেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হাল না ছেড়ে ইসিতে আপিল করেন। ৬৪৫ জন আপিলকারীর মধ্যে দীর্ঘ শুনানি শেষে ৪৩৭ জন তাঁদের প্রার্থিতা ফেরত পান। গতকাল মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত সারা দেশে ৩০৫ জন প্রার্থী তাঁদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭৩ জনে। উল্লেখ্য যে, আইনি জটিলতা বা অন্যান্য কারণে পাবনা-১ ও ২ আসনের কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত থাকায় ২৯৮টি আসনে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতিটি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা সম্বলিত ‘ফরম-৫’ কমিশনে পাঠাবেন। এই তালিকার ওপর ভিত্তি করেই ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শুরু হবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকাল থেকেই সরকারি প্রেসে ব্যালট পেপার মুদ্রণের মহাযজ্ঞ শুরু হবে। নির্বাচনের দিন ভোটাররা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসির একটি বড় পদক্ষেপ।
দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় নির্বাচনের দামামা বাজায় দেশজুড়ে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে ইসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, প্রচারণার সময় কোনোভাবেই জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। দেয়ালে পোস্টার লাগানো, শোডাউন বা তোরণ নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ বলবৎ থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের মাধ্যমে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন। সেই থেকে শুরু হওয়া প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে এখন আমরা মূল প্রচারণার দ্বারপ্রান্তে। আগামী তিন সপ্তাহ প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবেন নিজেদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের রায়ে নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের ভাগ্যবিধাতা কারা হচ্ছেন।