খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
অধস্তন আদালত সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও কারিগরি প্রকল্প বা অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় যেকোনো কর্মসূচির ব্যয় ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হলে প্রধান বিচারপতি সরাসরি তা অনুমোদন করতে পারবেন। এর বেশি ব্যয় হলে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে পাঠাতে হবে। মুদ্রাস্ফীতি বা উপযুক্ত কারণ বিবেচনায় সরকার চাইলে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সীমা পরিবর্তন করতে পারবে। এ বিষয়ে বিধান রেখে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি হয়েছে।
রবিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অধ্যাদেশ জারি করে। এর আগে ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনের খসড়ার অনুমোদন দেয়।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর-প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প পরীক্ষা ও সুপারিশের জন্য আট সদস্যের একটি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি থাকবে, যার প্রধান হবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। প্রকল্প যাচাইয়ের জন্য সচিবের নেতৃত্বে একটি আলাদা যাচাই-বাছাই কমিটিও গঠিত হবে, যারা সরকারি নির্দেশিকা ২০২২ অনুসরণ করবে।
৫০ কোটি টাকার মধ্যে কমিটির সুপারিশকৃত প্রকল্প প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করবেন; এর বেশি হলে তা পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে একনেকে যাবে। অনুন্নয়ন বাজেটের স্কিমের ক্ষেত্রেও একই সীমা প্রযোজ্য থাকবে। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, ব্যয় সমন্বয়সহ কারিগরি বা সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদনও প্রধান বিচারপতি দিতে পারবেন।
বাজেট ব্যবস্থাপনায় বলা হয়েছে, প্রতি অর্থবছরের কমপক্ষে তিন মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিজস্ব আয়-ব্যয়ের বিবৃতি তৈরি করবে এবং তা সরকারের আর্থিক বিবৃতির সঙ্গে সংসদে উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। বাজেটে সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, দপ্তর, ট্রাইব্যুনাল, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যয়সহ সব প্রয়োজনীয় খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বাজেট পুনঃউপযোজনের সম্পূর্ণ ক্ষমতাও প্রধান বিচারপতির হাতে থাকবে।
সংবিধানের ২২, ১০৯ ও ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দৃঢ় করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নামে একটি স্বতন্ত্র দপ্তর থাকবে, যার সার্বিক নিয়ন্ত্রণে থাকবেন প্রধান বিচারপতি এবং সচিব হবেন প্রশাসনিক প্রধান। এই সচিবালয় অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিয়োগ, বদলি, পদ সৃষ্টি, শৃঙ্খলা, ছুটি, প্রশিক্ষণ ও দপ্তর-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব পালন করবে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগীয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজ রাষ্ট্রপতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সম্পাদন করবে। বদলি বা পদায়ন সংক্রান্ত বিষয় সংবিধানের বিধিমালা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হবে।
অধ্যাদেশ জারির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে—বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বাস্তবায়ন, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি জারি করেছেন। গত বছর ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন