খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ইসরায়েল-হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) হামাস ছয়জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিলেও বিনিময়ে ৬২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে গাজায় পাঠায়নি ইসরায়েল। ইসরায়েলের এই বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তির ‘লঙ্ঘন’ জানিয়ে হামাস জানায়, ইসরায়েল যতক্ষণ এই ফিলিস্তিনিদের মুক্তি না দেবে ততক্ষণ কোনো আলোচনা হবে না।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস নেতা মাহমুদ মারদাবি রবিবার বলেছেন, ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তারা তেল আবিবের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না বলে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তির প্রথম ধাপে শনিবার ইসরায়েলের ৬২০ বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে হামাস ছয়জন ইসরায়েলি বন্দীকে ছেড়ে দেয়। তবে ইসরায়েলি সরকার মুক্তি বিলম্বিত করে। কারণ, হিসেবে তারা বলেছে, মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলি বন্দীদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া ছিল ‘অপমানজনক’।
হামাস নেতা মাহমুদ মারদাবি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ছয়জন ইসরায়েলি বন্দীর বিনিময়ে যে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে চুক্তি হয়েছে, তাদের ছাড়া পর্যন্ত (ইসরায়েলি) শত্রুর সঙ্গে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আলোচনা হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের অবশ্যই শত্রুকে চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে।’
এদিকে, একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাঁর দেশ ফের গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত। রবিবার এক সামরিক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে চান, তবে অন্য উপায়েও তা নিশ্চিত করা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় তীব্র লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল গোষ্ঠীটিকে ধ্বংস করার ঘোষণা দেয় এবং গাজায় আগ্রাসন শুরু করে। এই আগ্রাসনে অঞ্চলটিতে ৪৮ হাজারে বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
খবরওয়ালা/টিএ