খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের বিহার রাজ্যে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী ও কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার রাজ্যজুড়ে খোলা জায়গায় বা উন্মুক্ত স্থানে মাছ ও মাংস বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানো এবং শহুরে সৌন্দর্যায়নের কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছে প্রশাসন।
বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা এই নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। তিনি জানান, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো বিক্রেতা রাস্তার ধারে বা খোলা বাজারে উন্মুক্ত অবস্থায় মাছ বা মাংস প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারবেন না। এই ব্যবসা পরিচালনার জন্য এখন থেকে কেবল লাইসেন্সধারী নির্দিষ্ট স্থায়ী দোকান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট পরিকাঠামোর ভেতরেই কেবল আমিষ পণ্যের কেনাবেচা করা যাবে।
বিহার সরকারের নতুন নির্দেশনার প্রধান দিকসমূহ:
| বিষয় | বিবরণ ও বিধিনিষেধ |
| নিষেধাজ্ঞার আওতা | রাস্তার ধারে, ফুটপাতে বা যেকোনো খোলা স্থানে মাছ-মাংস বিক্রি। |
| বিক্রয় কেন্দ্র | কেবল লাইসেন্সধারী স্থায়ী দোকান বা নির্দিষ্ট মার্কেট কমপ্লেক্স। |
| স্বাস্থ্যবিধি | মাংস কাটার স্থান পরিষ্কার রাখা এবং পর্দার মাধ্যমে ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। |
| শাস্তি | নিয়ম অমান্যকারীদের লাইসেন্স বাতিল ও মোটা অঙ্কের জরিমানা। |
বিহার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আইন কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিহারে এর আগে থেকেই মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে এবং বর্তমান সরকারের এই ‘নিরামিষবান্ধব’ ও ‘পরিচ্ছন্নতা নীতি’ রাজ্যটির সামাজিক কাঠামোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য যে, পার্শ্ববর্তী রাজ্য উত্তরপ্রদেশেও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে বিহারের নীতীশ সরকার ধর্মীয় স্থানের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পুরো রাজ্যজুড়েই খোলা বাজারে বিক্রির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করছে।
যদিও রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্তের তারিখ বা শাস্তির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত করেনি, তবুও এই ঘোষণা আসার পর থেকেই স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিহারের অর্থনীতিতে মাছ ও মাংস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিক্রেতা এখন নতুন লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং স্থায়ী দোকান নির্মাণের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বিশেষ করে গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে যেখানে মাছের বিশাল বাজার রয়েছে, সেখানে এই আইন বাস্তবায়ন করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যারা লাইসেন্স ছাড়া বা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিহারকে একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নত রাজ্যে রূপান্তর করার স্বপ্ন দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।