খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৩ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক অভাবনীয় লড়াইয়ের জন্ম দিল আয়ারল্যান্ড। মাত্র চারটি উইকেট হাতে নিয়ে টেস্টের পঞ্চম দিনে ব্যাট করতে নামে অতিথিরা, আর তাতেই যেন বাংলাদেশকে বড় এক হতাশায় ডুবিয়ে দিল তারা। প্রথম সেশনে আইরিশদের দৃঢ়তা নজর কাড়ে—৩৯ ওভার ব্যাট করে তারা হারায় মাত্র দুই উইকেট। বল পুরোনো হয়, সেশন বদলায়, কিন্তু লড়াইয়ের মানসিকতায় এক চুল নড়াচড়া নেই সফরকারী শিবিরে।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেও লড়াই ছিল একই রকম তীক্ষ্ণ। সেখান থেকেই শুরু রেকর্ডের গল্প। চতুর্থ ইনিংসে মিরপুরে সফরকারী কোনো দলের সর্বোচ্চ ব্যাটিংয়ের নতুন রেকর্ড এখন আয়ারল্যান্ডের দখলে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০৪ ওভার টিকে থেকে ৮ উইকেটে ২৮০ রান করেছে তারা—যা শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং তাদের মানসিক দৃঢ়তা ও পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রমাণ।
এর আগে মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে বিদেশি দলের সর্বোচ্চ ব্যাটিং রেকর্ড ছিল জিম্বাবুয়ের দখলে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ৪৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮৩.১ ওভার ব্যাট করে ২২৪ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। প্রায় সাত বছর ধরে রেকর্ডটি অটুট ছিল, কিন্তু এবার সেটিও ভেঙে দিল উদ্যমী আয়ারল্যান্ড।
আইরিশরা শুধু জিম্বাবুয়ের রেকর্ডই ভাঙেনি, বরং বাংলাদেশের দেওয়া চাপকেও পাত্তা দেয়নি। প্রতিটি সেশনেই তারা প্রতিরোধ গড়েছে, বোলারদের ক্লান্ত করেছে, আর সময়কে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে। লোয়ার অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও উইকেট পাহারার মিশ্রণ তৈরি করেছে ঐতিহাসিক এক ইনিংসের প্রেক্ষাপট।
| দল | বছর | রান | উইকেট | ওভার | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ | 2008 | 413 | অলআউট | 126.2 | শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয় |
| আয়ারল্যান্ড | 2025 | 280* | ৮ | 104 | ম্যাচ চলমান |
| জিম্বাবুয়ে | 2018 | 224 | অলআউট | 83.1 | বাংলাদেশ জয় |
মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যাটিংয়ের রেকর্ড বাংলাদেশেরই—২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৬.২ ওভার ব্যাট করে ৪১৩ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই রেকর্ড ছিল টিকে থাকার, লড়াই করার প্রচেষ্টা; আজ আয়ারল্যান্ডের ইনিংসটিও তেমনই এক জেদের প্রতিচ্ছবি।
ম্যাচের পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর বাংলাদেশের জন্য। যেখানে মনে করা হয়েছিল মাত্র চার উইকেটে শেষ দিন শুরু করায় আয়ারল্যান্ড সহজেই গুটিয়ে যাবে, সেখানে তারা বরং জ্বলে উঠল। ব্যাটাররা খাপে খাপে খেলেছে, রক্ষণের মনোভাব রেখেও শট বেছে নিয়েছে হিসেব করে। ফলে সময়ও কেটেছে, রানও জমেছে।
বাংলাদেশের বোলাররা চেষ্টা করলেও ব্রেকথ্রু পেতে হয়েছে ধৈর্য ধরে। উইকেট থেকে বিশেষ কোনো সহায়তা না মেলায় আক্রমণে ধার কমে যায়। আর সেই সুযোগে আয়ারল্যান্ড তৈরি করে এক নতুন ইতিহাস।
এখন প্রশ্ন—আয়ারল্যান্ড কি আরও বড় রেকর্ড গড়তে পারবে?
নাকি বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে লড়াই ফিরিয়ে ম্যাচে প্রভাব তৈরি করবে?
উত্তর মিলবে ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই।
খবরওয়ালা/এসজে