বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আজ রাত দুইটায় প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে। দেশ ছাড়ার আগে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের ইংরেজ কোচ পিটার বাটলার রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্যে দলের প্রস্তুতির ঘাটতি, বাফুফের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং সংগঠনগত সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাটলার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “হয়তো এই বাফুফেতে সবাই ফুটবলকে সেই স্তরে বোঝেন না। জীবনে যেমন হয়, ফুটবলও তেমন। অনেক সময় জয় বা ফলাফল দিয়ে ফাটলগুলো ঢেকে রাখা হয়। কিন্তু বিষয়টা শুধু প্রথম ১০ মিনিটে দুটি গোল করা বা পরের ২০ মিনিটে আরও দুটি গোল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন মানসম্মত পারফরম্যান্স গড়ে তোলা, যার ওপর বিশ্বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব।”
প্রস্তুতির ঘাটতি ও বাফুফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
৭ ফেব্রুয়ারি নেপালের পোখারায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনালে ভারতের কাছে বাংলাদেশ ৪-০ গোলে হেরেছিল। ফাইনালের আগে বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার মেয়েদের প্রথম ১০ মিনিটে প্রথম গোল এবং পরের ১০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দলীয় সূত্রের দাবি, এই চাপের কারণে মেয়েরা সঠিকভাবে খেলতে পারেনি।
বাটলার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমার মা বলতেন, যত কম কথা, তত কম ঝামেলা। কিন্তু মাঝেমধ্যে সত্য বলা জরুরি। আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক মিথ্যাচার হয়েছে। আমি কাউকে দোষারোপ করছি না, তবে পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগেনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বিভিন্ন দেশে কাজ করেছি—লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া। আমি কারও হাতের পুতুল নই। সবকিছু গোলমেলে হলে সবাই দায় চাপায় আমাকে। আমি দলের জন্য দায়ী হতে রাজি, তবে মিথ্যা প্রচার বন্ধ হতে হবে।”
ঘরোয়া লিগ বনাম আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি
ডিসেম্বরের পর আর কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না হওয়ার প্রসঙ্গে বাটলার সরাসরি বাফুফেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তার মতে, জাতীয় দলের প্রস্তুতির চেয়ে ঘরোয়া লিগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
| তারিখ | পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ | ঘরোয়া লিগের কারণে পরিবর্তন | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| ১০ ফেব্রুয়ারি | ফিলিপাইন | লিগ ম্যাচ অনির্দিষ্ট | না খেলা |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি | ফিলিপাইন | লিগ ম্যাচ খেলা | অসম্পূর্ণ প্রস্তুতি |
| পরবর্তী পরিকল্পনা | মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড | প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল | অনিশ্চিত |
বাটলার বলেন, “আমি রিঅ্যাকটিভ হওয়ার চেয়ে প্রোঅ্যাকটিভ হওয়া পছন্দ করি। প্রস্তুতি বাদ দিয়ে লিগকে অগ্রাধিকার দেওয়া আদর্শ মানের হয়নি।”
তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স
তরুণ খেলোয়াড় আলপি, প্রীতি ও উমেলা দলের জন্য ইতিবাচক চিহ্ন রেখেছে। বিশেষ করে প্রীতি সম্পর্কে বাটলার বলেন, “সে এখন অদম্য শক্তিতে ফিরে এসেছে। তরুণেরা সিনিয়রদের চাপ দিচ্ছে, যা দলের জন্য ভালো। তবে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ভুল করলে বড় ব্যবধানে হারার ঝুঁকি রয়েছে।”
বাফুফের নারী কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার প্রস্তুতির ঘাটতি স্বীকার করে বলেন, “প্রস্তুতিটা আরও ভালো হতে পারত। বাইরে পাঠিয়ে ট্রেনিং বা আরও প্র্যাকটিস ম্যাচ করলে তৃপ্তি বাড়ত। তবে সিদ্ধান্ত একা আমার নয়, শীর্ষ কর্তাদেরও সঙ্গে রয়েছে।”
বাফুফের সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, দলকে থাইল্যান্ডে ক্যাম্প করানো এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে সিডনিতে পাঠানো হবার কথা ছিল। তবে তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের দল প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাত্রা করছে, যেখানে কঠিন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।
এভাবেই পিটার বাটলার বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিলেন, যেখানে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ছাড়া সাফল্য অর্জন সহজ নয়।