খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি তাদের চলমান আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা লাভ করেছে। আমানতকারীদের অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকটি তীব্র নগদ অর্থের সংকটে পড়েছিল। এই সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই জরুরি তহবিলের অনুমোদন দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ব্যাংকিং খাতে সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রভাবে প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, গত সপ্তাহে ব্যাংকটির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তারল্য সহায়তার বিষয়টি অনুমোদিত হয়। তবে ৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল অংকের পুরোটা ব্যাংকটি দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যয় করতে পারবে না। কারণ, সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত বা এসএলআর (Statutory Liquidity Ratio) সংরক্ষণে ব্যাংকটির বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। ফলে এই সহায়তার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকাই এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা পূরণে কেটে নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং পরিভাষায় এসএলআর হলো আমানতের সেই নির্দিষ্ট অংশ, যা প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে নগদ অর্থ, স্বর্ণ বা অনুমোদিত সিকিউরিটিজের আকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। প্রচলিত ব্যাংকগুলোর জন্য বর্তমানে এই হার ১৩ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এটি একটি অপরিহার্য শর্ত। নিচে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান তারল্য পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
| প্রাপ্ত মোট তারল্য সহায়তা | ৫,০০০ কোটি টাকা। |
| এসএলআর ঘাটতি মেটাতে ব্যয় | প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা। |
| নিট ব্যবহারযোগ্য তহবিল | প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা। |
| এসএলআর সংরক্ষণের হার | মোট আমানতের ১৩ শতাংশ। |
| বোর্ড পুনর্গঠন | আগস্ট ২০২৫ (৭ সদস্যের পর্ষদ)। |
প্রিমিয়ার ব্যাংকের এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পটভূমি। ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল দীর্ঘ ২৬ বছর এই পদে আসীন থাকার পর গত বছরের জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং ৭ সদস্যের একটি নতুন প্যানেল গঠন করে। মূলত শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাংকটি আমানতকারীদের আস্থার সংকটে পড়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনজুর মফিজের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এই তারল্য সহায়তার ফলে ব্যাংকটি প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠতে সক্ষম হবে এবং গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেন প্রক্রিয়া সচল থাকবে। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।