খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিল এবং নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে দলটির নেতিবাচক অবস্থানের প্রতিবাদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি বিশেষ স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামক একটি সংগঠন। আজ শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি, যিনি এই সংগঠনটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় রোবাইয়াত ফাতিমা তনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও বক্তব্যে ক্রমাগতভাবে নারী নেতৃত্ব বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করছেন। তাদের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী, কোনো নারী দলীয় প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংস্থার শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।
তনি অভিযোগ করেন যে, জামায়াতের এই ধরনের কট্টরপন্থী আদর্শ বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এবং ২৮-এর সরাসরি লঙ্ঘন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার দিয়েছে এবং ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ কিংবা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না করার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি লিঙ্গ সমতার পরিপন্থী অবস্থান গ্রহণ করে বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আদর্শ প্রচার করে, তবে সেই দলের রাজনৈতিক নিবন্ধন বহাল থাকার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণের অধিকারকে অস্বীকার করা কেবল নারীবিদ্বেষ নয়, বরং এটি একটি গভীর রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অসাংবিধানিক অপতৎপরতা।
নিচে জামায়াতের দাবিকৃত অবস্থান এবং বাংলাদেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান (দাবিকৃত) | বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন |
| নারী নেতৃত্ব | নারীরা রাষ্ট্রপ্রধান বা উচ্চপদে অযোগ্য। | নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ্য যে কেউ উচ্চপদে বসতে পারেন। |
| লিঙ্গ সমতা | লিঙ্গভেদে নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। | অনুচ্ছেদ ২৮ অনুযায়ী লিঙ্গ বৈষম্য নিষিদ্ধ। |
| আরপিও বিধিমালা | দলীয় গঠনতন্ত্রে নারী নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা। | আরপিও অনুযায়ী লিঙ্গ বৈষম্যকারী দলের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য। |
| সামাজিক অবস্থান | নারীদের ঘরের কাজে সীমাবদ্ধ রাখার পরোক্ষ আহ্বান। | উন্নয়নের মূলধারায় নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নীতি। |
সংগঠনটির আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিল এবং সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি সংবাদ সম্মেলন থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন:
১. জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নীতি ও কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে তাদের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিলের জন্য দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. লিঙ্গ বৈষম্যমূলক বক্তব্যের জন্য জামায়াত নেতৃত্বকে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করতে হবে।
৪. দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা নারীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে রাষ্ট্রকে কঠোর আইনগত অবস্থান নিতে হবে।
রোবাইয়াত ফাতিমা তনি তাঁর বক্তব্যের শেষে দৃঢ়তার সাথে বলেন, নারীর সম্মান এবং সাংবিধানিক অধিকার কোনোভাবেই রাজনৈতিক আপসের বিষয় হতে পারে না। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ যখন অপরিহার্য, তখন এ ধরনের মধ্যযুগীয় আদর্শ প্রচার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা।