রাশিয়া মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গুরুতর অভিযোগ করেছে যে ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআর এই দাবির সঙ্গে মিলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাত বিশ্বের জন্য “অত্যন্ত ভয়াবহ” পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইউরোপীয় এই দুই দেশ কিয়েভকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করছে। তবে এই অভিযোগের কোনো দালিলিক প্রমাণ সরাসরি উপস্থাপন করা হয়নি। মস্কোয় নিযুক্ত ফ্রান্সের দূতাবাস এই দাবি “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের সরকার এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য প্রদান করেনি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাতের প্রভাব কেবল ইউক্রেন বা ইউরোপের সীমায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো বিশ্বের জন্য মারাত্মক বিপদ তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। এসময় ইউরোপীয় নেতারা কিয়েভকে পরিত্যাগ না করার অঙ্গীকার করেছেন, যদিও ইউক্রেনের মিত্রদের মধ্যে বিভক্তির ছাপ স্পষ্ট। হাঙ্গেরি সম্প্রতি ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ভেটো দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন কিয়েভ সফরে আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রয়োজনীয় ঋণসহ সহায়তা যেকোনো উপায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন
| দেশ/গোষ্ঠী | সমর্থনের ধরন | মন্তব্য/প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | সামরিক ও আর্থিক সহায়তা | জি-৭ সম্মেলনে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত |
| ইউরোপীয় ইউনিয়ন | ঋণ ও অবকাঠামোগত সহায়তা | হাঙ্গেরি ভেটো সত্ত্বেও কার্যকর করবে সহায়তা |
| ফ্রান্স ও ব্রিটেন | অভিযোগ অনুযায়ী পারমাণবিক প্রযুক্তি | রাশিয়ার দাবি, উভয় দেশ প্রতিবাদ করেছে |
| জি-৭ | কূটনৈতিক সমর্থন | ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা সমর্থন |
জি-৭ নেতারা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কেবল সদুদ্দেশ্য আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটি ছিল জি-৭ নেতাদের প্রথম যৌথ বিবৃতি।
যুদ্ধক্ষেত্রে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করছে, তবে সামরিক অগ্রগতি সীমিত। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে, ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন তাদের শিল্পসমৃদ্ধ দোনেৎস্ক অঞ্চলের শেষ ২০ শতাংশ ভূখণ্ড ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক আবেগঘন ভাষণে বলেছেন, “হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া মাতৃভূমি আমরা কখনো শত্রুর হাতে তুলে দেব না।” কিয়েভের রাস্তাগুলোতে এখন যুদ্ধক্লান্ত মানুষের মধ্যে এক বিষণ্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে, যেখানে তারা নীরবতার সঙ্গে নিহত সৈনিকদের স্মরণ করছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক সমতা এবং ইউক্রেনের ভূখণ্ড রক্ষা—সব মিলিয়ে একটি জটিল সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা শুধুমাত্র অঞ্চলের নয়, সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।