খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানে এক মাসের বেশি সময় ধরে আটক থাকা জাপানি সাংবাদিকের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে জাপান সরকার। তবে এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
জাপানের উপপ্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাসানাও ওজাকি বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ওই সাংবাদিককে ২০ জানুয়ারি ইরানে আটক করা হয়। তিনি বলেন, সরকার তার পরিবার ও ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে তিনি আটক ব্যক্তির পরিচয় বা ঘটনার অন্যান্য বিবরণ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক সাংবাদিক হলেন শিনোসুকে কাওয়াশিমা, যিনি জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে (NHK)-এর তেহরান ব্যুরোর প্রধান। সংবাদ সংস্থা রেডিও ফ্রি ইউরোপ জানিয়েছে, কাওয়াশিমাকে তেহরানের একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এনএইচকে এখনও এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তাদের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা সব সময় আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই। এই মুহূর্তে আমরা আর কিছু জানাতে পারছি না।”
কাওয়াশিমার কর্মজীবন সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০৫ সালে এনএইচকে-তে যোগ দেন এবং ২০১৭ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ব্যুরোর প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে খ্যাত এবং ওয়েবসাইটে তার প্রোফাইলে তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখ রয়েছে।
নিচের টেবিলে আটক সাংবাদিকের প্রাসঙ্গিক তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | শিনোসুকে কাওয়াশিমা |
| নাগরিকত্ব | জাপানি |
| মিডিয়া সংস্থা | এনএইচকে (NHK) |
| বর্তমান পোস্ট | তেহরান ব্যুরো প্রধান |
| সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা | ২০০৫ সাল থেকে এনএইচকে; ২০১৭ থেকে জাকার্তা ব্যুরো প্রধান |
| আটক তারিখ | ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ |
| অবস্থান | তেহরানের কারাগার, ইরান |
| বিশেষ উল্লেখ | আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাংবাদিক; লিংকডইন প্রোফাইলে তথ্য রয়েছে |
জাপান সরকার ইতিমধ্যেই ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে এবং কাওয়াশিমার নিরাপদ মুক্তির জন্য চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও তাদের অবস্থান জানাতে শুরু করেছে এবং ইরানকে সাংবাদিকদের নিরাপদ মুক্তি দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।
এই ঘটনায় জাপান ও ইরান সম্পর্কিত কূটনৈতিক তৎপরতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার বিবেচনায় বিষয়টি আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারে।