খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটে যাচ্ছে, যেখানে একজন পেশাদার ব্যবসায়ীকে এই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো। মোস্তাকুর রহমান পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউস, আবাসন খাত এবং রপ্তানি শিল্পে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী, যা তাকে ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বুধবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে, “মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে চার বছরের মেয়াদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। তিনি যোগদানের পর অন্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করবেন।” প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত সরকারে অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দেড় বছরের মাথায় তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।
নতুন গভর্নরের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ থাকবে ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
মোস্তাকুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১২ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে আইসিএমএবি থেকে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন এবং পরে ফেলো সদস্য হন।
তিনি বিভিন্ন পেশাগত সংস্থা ও শিল্প সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন:
| সংস্থা | অবস্থান / অবদান |
|---|---|
| বিজিএমইএ | সদস্য, বিভিন্ন কমিটি |
| রিহ্যাব | সদস্য, হাউজিং খাতের নেতৃত্ব |
| আটাব | সদস্য, ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্প |
| ডিসিসিআই | সদস্য, শিল্প ও বাণিজ্য উন্নয়ন |
| চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ | রেগুলেটরি কমিটি সদস্য |
| বাংলাদেশ ব্যাংক | বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগী |
মোস্তাকুর রহমান ম্যানুফ্যাকচারিং, রিয়েল এস্টেট, এগ্রো-বেসড এন্টারপ্রাইজেস এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভেনচারের ক্ষেত্রে ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি হেরা সোয়েটারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে কর্পোরেট ফিন্যান্স, ব্যাংকিং সম্পর্ক, রপ্তানি অর্থায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
তিনিই আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং ও শিল্প অর্থায়ন, রপ্তানি অর্থনীতি, কর্পোরেট গভার্নেন্স, ঝুঁকি তদারকি এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ। তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মোস্তাকুর রহমান বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা, এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় তিনি অবদান রেখে আসছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং শিল্প বিনিয়োগে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নেতৃত্বে নীতি-সংলাপ, শিল্প অর্থায়ন এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কারে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
মোস্তাকুর রহমানের নিযুক্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে—একজন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।