খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজানে ইফতারের টেবিলে গরম গরম জিলাপি দেখলেই অনেকের মুখে লালা জমে যায়। সোনালি রঙের, চিনির সিরায় ভেজানো জিলাপি একটি কামড়ে মুখে ছড়িয়ে দেয় মিষ্টতার স্বাদ। সারাদিন রোজা রাখার পর এই আকর্ষণ সামলানো সত্যিই কঠিন। কিন্তু অতিরিক্ত জিলাপি খাওয়া শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা রোজার পরবর্তী দিনগুলোতে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
জিলাপিতে থাকে পরিশোধিত ময়দা ও প্রচুর চিনি। খালি পেটে খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে ইনসুলিন নিঃসরণও হঠাৎ বৃদ্ধি পায় এবং কিছুক্ষণ পর রক্তে শর্করা দ্রুত কমে যায়।
এর ফলে দেখা দিতে পারে:
দুর্বলতা
মাথা ঘোরা
হাত-পা কাঁপা
অতিরিক্ত ক্ষুধা
বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বড়। রক্তে শর্করার এই ওঠানামা সারাদিন ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়ায়।
জিলাপি ভাজাপোড়া এবং চিনি যুক্ত একটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার। একটি মাঝারি জিলাপিতে প্রায় ১৫০–২০০ ক্যালরি থাকতে পারে।
| জিলাপির সংখ্যা | আনুমানিক ক্যালরি (ক্যাল) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১ | ১৫০–২০০ | ছোট টুকরা, সাধারণ পরিমাণ |
| ৩ | ৪৫০–৬০০ | ইফতারে বেশি খাওয়ার ঝুঁকি |
| ৫ | ৭৫০–১০০০ | অতিরিক্ত ক্যালরি, ওজন বৃদ্ধি সম্ভাবনা |
রোজার দিনে কম ক্যালরি গ্রহণের পর একসাথে এত ক্যালরি শরীরে ঢুকলে তা সহজেই চর্বি হিসেবে জমতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা, পেটের মেদ বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি তেল ও চিনি জাতীয় খাবার খেলে পেটে গ্যাস, অম্বল বা পেট ফাঁপা দেখা দিতে পারে। জিলাপিতে থাকা ট্রান্স ফ্যাট হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে। যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়াতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক আছে। রমজান মাসে প্রতিদিন বেশি জিলাপি খাওয়া দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
ইফতার শুরু করা যেতে পারে ফল, খেজুর বা পানি দিয়ে, যাতে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমানো যায়।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন: একটি ছোট টুকরা জিলাপি মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
বাড়িতে কম তেল বা স্বাস্থ্যকর বিকল্প মিষ্টি ব্যবহার করুন। বাদাম, খেজুর বা ফল দিয়ে তৈরি মিষ্টি ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
জিলাপি আনন্দ ও উৎসবের খাবার, প্রতিদিনের নয়। রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে মিষ্টি ও ভাজাপোড়ার প্রতি সংযম দেখানোই সবচেয়ে বড় কৌশল। পরিমিত খাওয়া রোজার মাসটিকে আরও সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক করে তোলে।