খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার রাতে ইউরোপের মঞ্চে ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর ভাগ্য চরমে পৌঁছেছে। ইন্তার মিলান চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ পর্বে বোদো গ্লিমটের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় শঙ্কা জেগেছিল যে, এইবার কোনো ইতালিয়ান ক্লাব কি শেষ ষোলোয় পৌঁছাবে না! এমন ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে, যখন টুর্নামেন্টটি ইউরোপীয়ান কাপ নামে পরিচিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আতালান্তা দেশটির মর্যাদা রক্ষা করলো, যা ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য এক সুখবর।
ইতালি থেকে প্লে-অফে তিনটি ক্লাব অংশ নিয়েছিল – ইন্তার মিলান, জুভেন্টাস এবং আতালান্তা। তাদের পারফরম্যান্স নিচের টেবিলে দেওয়া হলোঃ
| ক্লাব | প্রতিদ্বন্দ্বী | প্রথম লেগ ফল | দ্বিতীয় লেগ ফল | মোট এগ্রিগেট | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|---|
| ইন্তার মিলান | বোদো গ্লিমট | ১-৩ | ১-২ | ২-৫ | বিদায় |
| জুভেন্টাস | গালাতাসারাই | ২-৫ | ৩-০ (অতিরিক্ত সময় ২-২) | ৫-৭ | বিদায় |
| আতালান্তা | বরুশিয়া ডর্টমুন্ড | ০-২ | ৪-১ | ৪-৩ | বাকি রাউন্ডে |
ইন্তার মিলান তিনবারের চ্যাম্পিয়ন হলেও নরওয়ের ক্লাব বোদো গ্লিমটের কাছে দুই লেগে হেরে বিদায় নিল। ফুটবল বিশারদরা এটিকে ‘ইতালীয় ফুটবলের বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইন্টারের হার নিয়ে দেশীয় সাংবাদিক ভিঞ্চেঞ্জো ক্রেদেনদিনো বলেন, “ইতালি ও ইন্তার মিলানের জন্য এটি সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোর একটি।”
জুভেন্টাস, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন, প্রথম লেগে ২-৫ ব্যবধানে হারার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ইনজুরিতে ভুগছিলেন তাদের প্রধান তারকা ফুটবলাররা। যদিও ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে জেতার পর সমতায় ফিরলেও অতিরিক্ত সময়ের খেলায় ২ গোল হজম করে তারা শেষ ষোলোতে উঠতে ব্যর্থ হয়।
আতালান্তা প্রথম লেগে ০-২ গোলে হারের পরও সিগনাল ইদুনা পার্কে শক্তিশালী খেলা দেখিয়ে জার্মান ক্লাবকে ৪-১ গোলে হারিয়ে মোট এগ্রিগেটে ৪-৩ গোলে পরের রাউন্ডে উঠেছে। খেলায় আতালান্তার আত্মবিশ্বাস এবং সংগ্রাম বিশেষভাবে নজরকাড়া।
ইতালিয়ান ফুটবল সাংবাদিক ডানিয়েলে বেরি বলেন, “তিন দলের একটিও নকআউটে যেতে না পারলে তা সম্পূর্ণ বিপর্যয় হত।” সাবেক ওয়েস্ট ব্রম ও অ্যাস্টন ভিলা ডিফেন্ডার কার্টিস ডেভিস জানিয়েছেন, “এখন আতালান্তা ইতালিয়ান ফুটবলের প্রিয়।”
ফুটবল বিশেষজ্ঞ জেমস হর্নক্যাসল যোগ করেছেন, “৮ বছর আগেও দলটি এত শক্তিশালী ছিল না। ইউরোপীয় ট্রফি জয় এবং তিনটি কোপা ইতালিয়া ফাইনালে ওঠার পর, এখন আতালান্তা চ্যাম্পিয়নস লিগে সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
সাংবাদিক নিকি বান্দিনি আরও বলেছেন, “আতালান্তার এই জয় ইতালীয় ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশীয় ফুটবলের জন্য ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করবে, যা জুভেন্টাস বা ইন্তারের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে।”
এবার আতালান্তা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় ইতালির একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী ক্লাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পরের রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে আর্সেনাল বা বায়ার্ন মিউনিখ, যেখানে তাদের দৃঢ় মনোবল এবং গতিশীল ফুটবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।