দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে স্বতন্ত্র তদন্ত শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বোর্জ ব্রেন্দে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
২০১৭ সালে ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট পদে যোগদানের পর থেকে ব্রেন্দে সংস্থার বার্ষিক দাভোস সম্মেলনসহ বিভিন্ন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। নরওয়ের এই রাজনীতিক এক বিবৃতিতে জানান, “গভীরভাবে বিবেচনা করে আমি ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে কাটানো সাড়ে আট বছর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল।” তবে এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ব্রেন্দে এপস্টিনের সঙ্গে তিনটি ব্যবসায়িক নৈশভোজে অংশ নেন এবং ইমেইল ও খুদে বার্তায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ব্রেন্দে আরও জানান, ২০১৮ সালে প্রথম সাক্ষাতের সময় তিনি এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে জানতেন না, এবং বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই না করার জন্য তিনি অনুতপ্ত।
২০০৮ সালে এপস্টিনকে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অপরাধে দণ্ডিত করা হয়। এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে।
স্বতন্ত্র তদন্তের ফলাফল
ডব্লিউইএফের দুই কো-চেয়ার, আন্দ্রে হফম্যান ও ল্যারি ফিঙ্ক, এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে সংস্থার বাইরের আইনজীবীদের মাধ্যমে পরিচালিত স্বতন্ত্র তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্তে বলা হয়েছে, পূর্বে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে নতুন উদ্বেগের মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ডব্লিউইএফ নেতৃত্বের সাময়িক দায়িত্ব:
| পদ | দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি | মন্তব্য |
|---|---|---|
| অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ও সিইও | অ্যালোইস জুইঙ্গি | বোর্ড অব ট্রাস্টি নতুন স্থায়ী নেতা খোঁজার তদারকি করবে |
ব্রেন্দে তার পদত্যাগে সংস্থার সহকর্মী ও অংশীদারদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়ার জন্য এটি সঠিক সময়।
এপস্টিনের মৃত্যু ও প্রকাশিত নথি
এপস্টিন ২০১৯ সালে ম্যানহাটানের কারাগারে আত্মহত্যা করেন। তখন যৌন কাজের জন্য মানব পাচার মামলায় বিচার চলছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং টেসলার সিইও ইলন মাস্কসহ বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টিনের যোগাযোগ ছিল।
এই নথি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
ব্রেন্দের পদত্যাগ এবং এই নথি প্রকাশ বিশ্ব অর্থনীতির মূল ধারার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয়ে নতুন আলো উন্মোচন করেছে, এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিতর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে।