খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি সমন্বয় সভা হঠাৎ করেই উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘাতে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খাঁনের কালীগঞ্জ কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের অনুসারী এবং রামনগর কলেজের অধ্যক্ষ ও বিএনপি নেতা মোকলেচুর রহমান (পিন্টু মিয়া) ও মতি মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার, দলীয় পদ-পদবি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজ করছিল।
এই বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। তবে সভা শুরুর কিছু সময় পরই দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এতে সভাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। চেয়ার-টেবিল, কাচের জানালা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে এক পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী প্রাণ বাঁচাতে কালীগঞ্জ থানার চত্বরে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের কয়েকজন কর্মী থানা চত্বরে ঢুকে আশ্রয় নেওয়া নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে এলে উত্তেজিত কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল বিপুল হোসেন, পান্নু হোসেন, তুহিন এবং ফজলুর রহমান। তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে আহত অন্যান্য নেতাকর্মীদের কয়েকজন স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ পৌর শহর, থানা এলাকা এবং বিএনপির কার্যালয়ের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে নিয়মিত টহল জোরদার করেছে। সন্ধ্যার পরও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
সমন্বয় সভার উদ্যোক্তা এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খাঁন জানান, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দূর করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দলের সকল নেতাকর্মীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সংযমী থাকার অনুরোধ করেন।
এদিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, থানা চত্বরে প্রবেশ করে হামলার চেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।