খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানে অভিযান চালিয়ে ৩৩১ জন সন্ত্রাসী হত্যার দাবি করেছে, যাদের মধ্যে বিভিন্ন চেকপোস্ট ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানও পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দেশ দুই পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা শনিবার জানিয়েছেন, অভিযান চলাকালীন:
৩৩১ জন যোদ্ধা নিহত
৫০০ এর বেশি আহত
১০৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস
২২টি চেকপোস্ট দখল
১৬৩টি ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস
আফগানিস্তানের ৩৭টি স্থানে বিমান হামলা
অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের নতুন হামলায় ১৩ বেসামরিক নিহত হয়েছে। কান্দাহারে ডুরান্ড লাইনের কাছে একটি অস্থায়ী শিবিরে বোমা হামলায় তিনজন শ্রমিক নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। কুনার প্রদেশের আসাদাবাদ শহরে গোলাবর্ষণে সাতজন বেসামরিক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। পাকতিকা প্রদেশেও সাম্প্রতিক হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি বলেন, “এটি যুদ্ধ নয়। পাকিস্তান তার মাটি ও জনগণকে আফগানিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাস থেকে রক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। আফগান তালেবান যদি তাদের ভূখণ্ডে উগ্রপন্থিদের ঘাঁটি ধ্বংস না করে, আমরা তা চালিয়ে যাব।” তিনি আরও যোগ করেছেন, তালেবানকে দোহা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আফগান মাটি ব্যবহার করে কোনো দেশের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আফগানিস্তান-সহ সীমান্ত সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারও পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তালেবান সরকারের বর্ডার পুলিশের মুখপাত্র আবিদুল্লাহ ফারুকি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলার জবাবে তারা তোরখামে পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং উচ্চ মনোবল নিয়ে দেশ রক্ষায় প্রস্তুত।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) উভয় দেশের প্রতি দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় সহিংসতার হঠাৎ বৃদ্ধি এই অঞ্চলে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।”