খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
বর্তমান প্রশাসনে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে মোট ১৩টি শীর্ষ পদ শূন্য রয়েছে। সরকার শিগগিরই এই পদগুলো পূরণ করার পরিকল্পনা করছে, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চুক্তিভিত্তিক পদোন্নতি ও পেছনে নানা প্রকার তদবির চলছে। সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকারের লক্ষ্য হলো মেধা, যোগ্যতা ও পেশাদারত্বকে প্রাধান্য দেওয়া, যাতে প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব অপরিহার্য। একই সঙ্গে সরকার আস্থাভাজন কর্মকর্তা নিয়োগের চেষ্টা করতে পারে। তবে প্রশাসনের পদগুলো দলীয়করণের অভিযোগে আক্রান্ত হলে তা সমগ্র প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, “সরকারের লক্ষ্য সফল করতে দক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা অপরিহার্য। স্বল্প মেয়াদে কিছু পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তা চলবে না। এজন্য সরকারের পদক্ষেপ পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হওয়া জরুরি।”
বর্তমানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ পদগুলো খালি রয়েছে।
| বিভাগ/মন্ত্রণালয় | শূন্য পদ |
|---|---|
| প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় | সচিব |
| ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় | সচিব |
| মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় | সচিব |
| তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ | সচিব |
| স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ | সচিব |
| স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ | সচিব |
| মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ | সচিব |
| পরিকল্পনা কমিশন | তিনজন সদস্যের সচিব পদ |
| ভৌত অবকাঠামো বিভাগ | সদস্য পদ |
| আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ | সদস্য পদ |
| শিল্প ও শক্তি বিভাগ | সদস্য পদ |
| জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি | মহাপরিচালক |
| ভূমি আপিল বোর্ড | চেয়ারম্যান |
| এসডিজি সমন্বয়ক | মুখ্য সিনিয়র সচিব |
সূত্র জানায়, শীর্ষ পদগুলোতে নিয়োগের জন্য পর্দার আড়ালে তদবির চলছে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের সময়ে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা যাদের দক্ষতা, সৎ ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ আছে, তারা সরকার কর্তৃক প্রাধান্য পেতে পারেন। ইতোমধ্যে ১৯৮৬ ব্যাচের একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অধিকাংশ অতিরিক্ত সচিব যাদের পদোন্নতি সম্ভব, তারা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন তল্পিবাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অভিজ্ঞতা সীমিত। তাই নতুন সরকারের জন্য তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসনের বেশির ভাগ কর্মকর্তা মনে করেন, সরকার যদি একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে সৎ, যোগ্য, মেধাবী ও পেশাদার কর্মকর্তাকে নির্ধারণ করে, তবে দ্রুত গতিশীলতা ফিরে আসবে। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক স্বল্প মেয়াদি নিয়োগ প্রয়োগ করলে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখা সম্ভব।
সার্বিকভাবে, শীর্ষ পদগুলো দ্রুত পূরণের মাধ্যমে প্রশাসনে গতিশীলতা, দক্ষতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় এবং প্রার্থীর যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নই সফল নিয়োগ প্রক্রিয়ার চাবিকাঠি।