খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর প্রধান শরিক দলগুলো একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তেহরানের এই মিত্র গোষ্ঠীগুলো মনে করছে, খামেনির প্রস্থান কেবল ইরানের ক্ষতি নয়, বরং এটি সমগ্র প্রতিরোধ আন্দোলনের ওপর এক চরম আঘাত।
লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো নিয়মিত সেনাবাহিনীর সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো। সূত্রের খবর অনুযায়ী, খামেনির শূন্যতা পূরণে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সরাসরি মাঠ পর্যায়ের তদারকি শুরু করেছে।
ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এই ঘটনাকে একটি ‘ক্ষমা অযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। হামাস নেতাদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ধ্বংসের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। গোষ্ঠীটির নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি ঘোষণা করেছেন, মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় তারা যেকোনো স্তরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।
| গোষ্ঠী | দেশ | প্রধান অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া |
| হিজবুল্লাহ | লেবানন | সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং ইসরায়েল সীমান্তে সতর্কাবস্থান। |
| হামাস | ফিলিস্তিন | ঘটনার কঠোর নিন্দা এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক। |
| হুথি | ইয়েমেন | লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে ক্রমাগত হামলা ও ড্রোন আক্রমণ। |
| কাতায়িব হিজবুল্লাহ | ইরাক | মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ও সর্বাত্মক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি। |
খামেনির পরবর্তী ইরানের হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবেন। বর্তমানে সম্ভাব্য তালিকায় আলোচনায় আছেন খামেনির পুত্র মোজতাবা খামেনি এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি। তবে যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ইরানের পররাষ্ট্র নীতি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন যে শিথিল হবে না, তা স্পষ্ট।
ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে কাতায়িব হিজবুল্লাহ, সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইরানের ওপর এই আঘাতের ফল হিসেবে পুরো অঞ্চলে একটি ‘টোটাল ওয়ার’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিতে পারে। একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিতে পারে, অন্যদিকে বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এই নতুন ঐক্য পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ সংঘাতের কিনারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।