খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ গ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং বিগত জুলাই অভ্যুত্থানে তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেওয়া হয়, যা দেশের বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
রিট আবেদনে প্রধানত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা। আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মো. সাহাবুদ্দিনের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের জন্য একটি অযোগ্যতা। সংবিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হতে হলে তাকে কেবল বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য থাকা চলবে না।
দ্বিতীয়ত, ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির “নীরব ভূমিকা” এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ সংক্রান্ত অস্পষ্ট বিবৃতির কারণে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চাওয়া হয়েছে। রিটকারী পক্ষের মতে, ওই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যথাযথ ভূমিকা পালন না করা এবং জুলাই গণহত্যার দায় এড়াতে না পারার কারণে তার বিরুদ্ধে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এই রিট আবেদনের আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতিকে পদ থেকে অপসারণের জন্য সংসদ সচিবালয় এবং আইন সচিবের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার এই নোটিশটি পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বর্তমান সংবিধানের বিধি মোতাবেক মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা নৈতিক ও আইনগতভাবে অসিদ্ধ। সেই নোটিশের কোনো সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
নিচে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত আইনি ও সাংবিধানিক সংকটের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| আবেদনকারীর দাবি | দ্বৈত নাগরিকত্ব ও শপথের অবৈধতা |
| মূল অভিযোগ | জুলাই অভ্যুত্থানে নীরবতা ও বিতর্কিত ভূমিকা |
| তদন্তের দাবি | মানবতাবিরোধী অপরাধের সংশ্লিষ্টতা যাচাই |
| পূর্ববর্তী পদক্ষেপ | ২৬ ফেব্রুয়ারি আইনি নোটিশ প্রদান |
| বর্তমান অবস্থা | হাইকোর্টে রিট দায়ের এবং শুনানির অপেক্ষা |
| আইনজীবী | ব্যারিস্টার শাহরিয়ার ও সহযোগীবৃন্দ |
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫২ ও ৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অভিশংসন বা অপসারণের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেখানে সংসদ কার্যকর নেই, সেখানে আদালতের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং আইনজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে, জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রের শীর্ষপদে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
আদালত যদি এই রিটটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন, তবে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এর প্রাথমিক শুনানি হতে পারে। বিচার বিভাগ এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কী পর্যবেক্ষণ দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো দেশ। যদি শপথ অবৈধ ঘোষিত হয়, তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদে এক নজিরবিহীন আইনি শূন্যতা বা পরিবর্তনের পথ উন্মোচিত হতে পারে।